ফিক্সিং নিয়ে আইসিসির সামনে মুখ খুললেন সরফরাজ-ক্রেমার


ফিক্সিং, দুর্নীতি ও অনিয়মের ছড়াছড়ি। পাকিস্তান ক্রিকেটের নাম শুনলে হয়তো এই শব্দগুলো সবার আগে মাথায় চলে আসে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে চাইলেও এসব থেকে মুক্তি মিলছে না। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সিরিজেও পাকিস্তান ক্রিকেটের পিছু নিতে চেয়েছিল ফিক্সিং কেলেঙ্কারি। তবে এবার যেন হাওয়া একটু উল্টো দিকে বইল! ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবে সায় দেননি পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ।

এখানেই শেষ নয়, ফিক্সিং কেলেঙ্কারি রুখতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। সরফরাজ আহমেদসহ আরও দুই দেশের অধিনায়ক মিলে দারস্থ হন ইন্টারন্যাশনাল কিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি)। আইসিসির দারস্থ হওয়া বাকি দু’জন অধিনায়কের মধ্যে একজন হচ্ছেন জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমার। কিন্তু তৃতীয় অধিনায়কের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ইংলিশ গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ও গার্ডিয়ান সূত্রে জানা গেছে, এই তিন অধিনায়ক আইসিসিকে জানিয়েছেন জুয়াড়িয়া সম্প্রতি কীভাবে তাদেরকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। তারা জানান, ম্যাচে ফিক্সিং করার জন্য ক্রিকেটারদেরকে ৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জুয়াড়িরা।

এই মুহূর্তে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে সাতটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ নিয়ে তদন্ত করছে আইসিসি। তালিকায় রয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ।

জানা গেছে, পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন সরফরাজ আহমেদকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল এক কুখ্যাত জুয়াড়ি। তবে সেই প্রস্তাব পাওয়ার সাথে সাথেই আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখাকে জানান পাকিস্তান অধিনায়ক।

একই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেমারের কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন সন্দেহজনক এক ব্যক্তি। তিনিও প্রস্তাব পাওয়া মাত্র আইসিসিকে বিষয়টি জানান। এরপরই তদন্তে নামে আইসিসির দুর্নীতি দমন শাখা। সেই তদন্তেই জানা গেছে, শুধু বড়দের ক্রিকেটে নয়, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং করার জন্যও ক্রিকেটারদের লোভনীয় অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। রাজি না হলে সেখানে হুমকি ধামকির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।