‘আওয়ামী লীগ অবহেলা করেনি, উন্নয়ন করেছে’


1447322532

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বগুড়ায় হয়ত কখনই আওয়ামী লীগ ১-২টির বেশি আসন পায়নি। কিন্তু তাই বলে কখনও বগুড়াকে অবহেলা করা হয়নি। বরং বগুড়ার উন্নয়নে কাজ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।
‘বঙ্গবন্ধু এমন একটি দেশ চেয়েছিল যে দেশে ক্ষুধা, দরিদ্রতা থাকবে না, স্বাধীন, সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে একটি সংবিধান উপহার দেন তিনি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বগুড়ায় ভোট কম পেলেও অনেক উন্নয়নমুলক কাজ করেছে তার সরকার।’
তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে বগুড়ায় বাস চলাচলের সুবিধার্থে একটি আধুনিক বাসটার্মিনাল, শিবগঞ্জ মসলা, বিমান রাডার, সারিয়াকান্দি হার্ট পয়েন্ট, মোহাম্মদ আলী ২৫০, বগুড়া মেডিকেল কলেজ অনুমোদন, যুব উন্নয়ন কেন্দ্র, দ্বিতীয় বাইপাস মহাসড়ক নির্মাণ করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বগুড়া বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বিএনপির ক্ষমতায় এসে সে বিশ্ববিদ্যালয় হতে দেয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এসে সারাদেশে হত্যা, সন্ত্রাস, ভুমি দখল, মন্দিরের অগ্নিসংযোগ করেছে। সেই সাথে বগুড়াবাসী যেন তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দীর্ঘ দিন পর বগুড়ায় এলেও কিছু উপহার নিয়ে এসেছি। উপহার হলো ১০ তলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসসহ ২৯টি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করলাম।’
তিনি বলেন, ‘বগুড়া একসময় শিল্পনগরী ছিল। সে বগুড়ায় আবারও যেন শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে উঠে, সেজন্য অর্থনীতি অঞ্চল করে দেবো, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে বগুড়া পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন, বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু, শহর থেকে মেডিকেলে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ১৯টি উন্নয়নমুলক প্রকল্পের কাজের শুভ সূচনা করলাম।’
জনসভায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নৌকা মানুষকে কিছু দেয়। যখন নৌকা মার্কার সরকার ক্ষমতায় আসে তখন দেশে উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন করে। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৩ সালের ৩ মার্চ বগুড়ার আওয়ামী লীগ সভাপতি, এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে সারাদেশে টানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে কেউ বাধা হয়ে থাকতে পারবে না। খালেদা জিয়া মেট্রিক ফেল, তারেক রহমান ইন্টারমিডিয়েট পাস। তাদের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেল তারা দেশটা রসাতলে নিয়ে যায়।’
তিনি বক্তব্য শুরু করার আগে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু করা হয়। বগুড়া জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত আছেন আওয়মী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরি, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মান্নান, আলহাজ্ব হাবিবুর রহমানসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
ইতোমধ্যেই জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামাপন লিটন, যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহম্মেদ নাসিম পাভেল, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী খাদিজা খাতুন শেফালী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রাগেবুল হাসান রিপু ও টি জামান নিকেতা, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার রায়, শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক উদয় কুমার বর্মণ, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আসাদুর রহমান দুলু ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুল হাসান তিতাস।
শেখ হাসিনা বেলা ৩ টা ৪০ মিনিটে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে পৌঁছেই সেখানে স্থাপিত ইলেকট্রনিক ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে মোট ৩৫ টি প্রকল্পে উদ্বোধন ও ভিত্তি স্থাপন করেন। এরমধ্যে ১৯ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৫ টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁরপর তিনি জনসভা মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। বর্তমানে সেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা বক্তব্য রাখছেন।