চট্টগ্রাম বন্দরে ধুলোর আস্তরে ১১৩টি দামি গাড়ি


car-1278113015

চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শেডে অবহেলায় পড়ে আছে বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ডের ১১৩টি গাড়ি। কোটি টাকার ল্যান্ড রোভার থেকে শুরু করে ছোট-বড় নানা ব্র্যান্ডের গাড়ির ওপর জমে আছে ধুলোর আস্তর। তারপরও আঙুলে ঘষা দিলে বেরিয়ে আসে ঝকঝকে লাল, বেগুনি, নীল রঙ। সূর্যের আলো পড়ে আরও ঝলকে ওঠে। আরও একটু ঘষে দেখা যায়, একদম নতুন চকচকে রঙের বনেট। গাড়ি দামি, ব্র্য্যান্ডনেমটিও ঢাকা পড়েছে ধুলোর আস্তরে। এবারই প্রথমবারের মতো কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ডের পুরোনো গাড়ির নিলামে আশাতীত সাড়া পেয়েছে। তবে দরপত্র জমা দেওয়া হলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এভাবে আড়াই মাস কেটে গেছে। ফলে নিলামে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ দরদাতারা হতাশ।

এবার গাড়িভেদে সর্বোচ্চ দর পড়েছে প্রায় পৌনে ৩ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন সুবিধায় আনা বিলাসবহুল এসব গাড়ি গত ২৪ মে বিশেষ নিলামে তোলা হয়। ওই সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৩টি গাড়ি কেনার জন্য দর দেয় ৪৬৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ দর হিসেবে ৯৩টি গাড়ির দাম ওঠে ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত জুনে এই সর্বোচ্চ দরের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৯৩টি গাড়ির মধ্যে ছিল ল্যান্ড রোভার, মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, মিতসুবিশিসহ জিপ।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে আনা এসব গাড়ি যুক্তরাজ্য থেকে আনা হয়। পর্যটন-সুবিধার অপব্যবহারের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কড়াকড়ি আরোপ করলে আমদানিকারকেরা এসব গাড়ি আর খালাস নেননি।

গত বছর ৮৫টি গাড়ি একসঙ্গে নিলামে তোলা হলেও বিক্রির অনুমোদন দেয়নি কাস্টমস। দ্বিতীয়বার ২৪ মে মোট ১১৩টি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ৫৬টি গাড়িতে আগের চেয়ে পৌনে ৯ কোটি টাকা বেশি দর পড়েছে।

কাস্টমসের নিয়মানুযায়ী, প্রথমবারের নিলামের চেয়ে বেশি দর পাওয়ায় ৫৬টি গাড়ির বিক্রির অনুমোদন দিতে কোনো বাধা নেই।

নিলামের দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৯৩টি গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের ১টি গাড়ির সর্বোচ্চ দর পড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ির সর্বোচ্চ দর পড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। আবার সর্বনিম্ন পৌনে ৩ লাখ টাকা দর দিয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জ ব্র্যান্ডের ১টি গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন একজন।

সর্বোচ্চ দর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের ২৮টি গাড়ির গড় দর পড়েছে ৩৫ লাখ টাকা। মডেল ও বয়সভেদে গাড়ির সর্বনিম্ন দর সাড়ে ৭ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দর ৬৪ লাখ টাকা। মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ১৯টির দর পড়েছে গড়ে সাড়ে ২৫ লাখ টাকা।

মিতসুবিশি জিপ গাড়ির গড় দর পৌনে ১৯ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দর পড়েছে। ল্যান্ড রোভার ৫টির গড় দর পড়েছে ৮৪ লাখ টাকা করে। সর্বোচ্চ ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন ৫২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বিলাসবহুল এসব গাড়ি ১১৩টি কনটেইনারে পাঁচ-ছয় বছর ধরে পড়ে আছে বন্দর চত্বরে। নিলামে বিক্রি করা গেলে ওই জায়গায় বছরে ৪ হাজারের বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো সম্ভব হতো।