১২০ কোটি টাকার বাঁধে সপ্তমবারের মতো ধস


218263_180

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার চৌহালী উপজেলা রক্ষায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধে সপ্তমবারের মতো ধস নেমেছে। বাঁধ ধসের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চৌহালী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চৌহালী আলিয়া মাদ্রাসা, বিএম কলেজ, বালিকা বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।

৭ জুলাই শুক্রবার রাত থেকে ৮ জুলাই শনিবার সকাল পর্যন্ত বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘এ এলাকার মাটির ধারণক্ষমতা কম। আর নদীর পানি বেড়ে তলদেশে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে ধস নামছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জ চৌহালীতে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দাতা সংস্থাসহ দেশীয় অর্থায়নে ফ্লাড অ্যান্ড রিভার ব্যাংক ইরৌশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এফআরইআরএমআইটি) নামক প্রকল্পের অধীনে বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তবে পর পর সাতবার ধসের কারণে এ বাঁধ আদৌ সুরক্ষা বা কার্যকর হবে কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়রা। আর স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা না নিয়ে জিওব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর দায়সারা চেষ্টা করেছে পাউবো। শনিবার সকালে যমুনার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টা আগে ছিল ৭ সেন্টিমিটার।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে আসেন পাউবোর টাস্কফোর্স প্রধান প্রকৌশলী কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, এফআরইআরএমআইটি প্রকল্পের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং বাঁধ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবো টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ। আগামী শুষ্ক মৌসুমে বাঁধটি সুরক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তারা।

বাঁধ নির্মাণকাজে কোনো গাফলাতি বা ত্রুটি নেই এমন দাবি করে টাস্কফোর্সের প্রধান কাজী তোফায়েল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধে এ ধরনের ধস দেখা দিলেও সুরক্ষার পর স্থায়ী হয়েছে। চৌহালীতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরও তিন বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পরে এটি আস্তে আস্তে টেকসই হয়ে যাবে।’