প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করলেন ট্রাম্প


donald_trump_331

যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

নির্বাচনের কয়েকমাস আগে থেকেই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচারণা শিবিরের গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করার অভিযোগ উঠে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই ট্রাম্প এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো এ অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি, এটি রাশিয়ার কাজ।
ট্রাম্প বলেন, আমি বিশ্বাস করছি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচারণা শিবির রুশ গোয়েন্দারাই হ্যাক করেছে, তবে এটি আর ঘটবে না। পুতিন আর কখনো এটি করবেন না। আমি মনে করি আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি সম্মান করবে।
শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ দিন আগে এ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দমে যাবেন না। যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন।
ট্রাম্প টাওয়ারে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে একহাত নিয়েছেন।
তিনি ধারণা দিয়েছেন, তাকে কেলেঙ্কারিতে ফেলার মত তথ্য রাশিয়া সংগ্রহ করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা হয়তো মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোই ফাঁস করে দিয়েছে।
ট্রাম্প সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ফাঁস করার জন্য যদি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আসলেই দায়ী হয়, তাহলে তাদের সুনামের ওপর একটি ‘বড়সড় কালির দাগ’ পড়বে।
এর আগে কয়েকটি গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, নির্বাচনে প্রচারণাকালীন তার দল রাশিয়ার সঙ্গে  যোগাযোগ রেখেছে এবং তার ব্যক্তিগত জীবনের অশ্লীল কিছু ভিডিও রাশিয়ার সংগ্রহে রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের কোনটিই প্রমাণিত নয়।
এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এসব তথ্যকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই ট্রাম্প এবং প্রেসিডেন্ট ওবামা উভয়ের কাছেই উপস্থাপন করেছে। কিন্তু এসব তথ্য গণমাধ্যমে আসার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দিকেই সন্দেহের আঙ্গুল তুলছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এ ক্তব্যের পর বিদায়ী ওবামা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট বলেছেন, গোয়েন্দারা দেশের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে কাজ করেন।  ট্রাম্প খুবই ভুলপথে গিয়ে তাদের আক্রমণ করছেন।
গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমকে একহাত নেওয়ার পাশাপাশি মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্তে দেয়াল তৈরি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দ্রুত তিনি এর নির্মাণকাজ শুরু করতে চান এবং মেক্সিকো পরে এর খরচ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেবে।
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিকে পেনা নিয়েতো বলেছেন, মেক্সিকো সীমান্ত দেয়ালের জন্য কোনো অর্থ দেবে নাা।