অবহেলায় পর্যটক হারাচ্ছে মধুটিলা ইকোপার্ক


madhu-tila

অবহেলা আর অযত্নে পর্যটক হারাচ্ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত জেলার সর্ববৃহৎ বিনোদন কেন্দ্র মধুটিলা ইকোপার্ক। ফলে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হারাচ্ছে সরকার।

সম্প্রতি পার্ক ঘুরে বরাবরের ন্যায় এ বছরের চিত্রটা একটু ভিন্নই দেখা গেছে। শীতের এই মৌসুমে মধুটিলা ইকোপার্ক পর্যকদের ভিড়ে মুখরিত হওয়ার কথা। অথচ পর্যটকদের যেমন ভিড় নেই, তেমনি অলস সময় পার করছেন পার্কের ভেতরের দোকানদাররা।

মধুটিলা ইকোপার্কে ঘুরতে আসা পর্যটক রফিক আহমেদ বলেন, ‘আমি এর আগেও আরও বেশ কয়েকবার এখানে এসেছিলাম। কিন্তু এ বছর ইকোপার্কের অবহেলার চিত্র দেখে একটু হতাশ হয়েছি।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে ময়মনসিংহ বন বিভাগের আওতায় ৩৮৩ একর জায়গায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলার পোঁড়াগাও ইউনিয়নের পাহাড় ও উঁচু নিচু টিলা ঘিরে মধুটিলা ইকোপার্কের কাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের আরও কিছু কাজ করা হয়।

তবে তৃতীয় ধাপে আরও কিছু উন্নয়নের পরিকল্পনা থাকলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। পার্কের ভেতরে হাতি, কুমির, বাঘসহ নানা ভাস্কর্যের রং উঠে গেছে। লেকে পড়ে আছে অকেজো প্যাডেল বোট। লেকে তেমন পানি নেই। ইকোপার্কের ভেতরের ওয়াচ টাওয়ারেও পর্যটকদের তেমন ভিড় নেই।

ইকোপার্কে রয়েছে নামমাত্র মিনি চিরিয়াখানা। যেখানে দুইটি হরিণ ছাড়া তেমন কোনো আর্কষণীয় প্রাণী চোখে পড়ে না। ইকোপার্কের ভেতরে আলাদা শিশু পার্ক থাকলেও বাহির থেকে তা আঁচ করা যায় না। এমনকি সেখানে তেমন কোনো খেলনা বা রাইড নেই।

পার্কটির চারদিকে কিছু অংশে সীমানা প্রাচীর থাকলেও বেশির ভাগ জায়গায় তা নেই। ফলে পার্কের ভেতর অনায়াসে গরু, ছাগল প্রবেশ করছে। এ ছাড়া ইকোপার্কের আশে পাশে হত্যাকাণ্ড ও ছিনতাইসহ বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার পরে জন মনে আতঙ্কে সৃষ্টি হয়েছে।

পার্কের ভেতরের দোকানি সেকান্দার মিয়া বলেন, গত বছর পার্কের আশে পাশে হত্যা ও বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনার ফলে অনেকে হয়তো ভয়ে লোকজন আসছেন না। তাই এ বছর তুলনামূলকভাবে বেচাকেনা কম হচ্ছে।

ইকো পার্ক রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিছুর রহমান বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর সরকারের ২২-২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। অথচ এখানে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে দিন দিন পর্যটক কমে যাচ্ছে।