ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন প্রকল্পে যুক্ত হচ্ছে সেনাবাহিনী


dhaka_chittagong

অনুমোদিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ  করতে হয়েছে সেতু নির্মাণ প্যাকাজের (বি-১) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সে কারণেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজে যুক্ত হতে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে ছয় মাস সময় বেড়েছে কাজের। এরপরও অসমাপ্ত কিছু থাকলে আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

১৯০.৪৮ কিলোমিটার চারলেন সড়ক প্রকল্প নিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি ব্রিজ নির্মাণ করেই চলে গেছে। ওই কাজে অগ্রগতি হয়েছে ৬৭.৫০ শতাংশ। এখনওযে দুটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে সে দুটির চুক্তি মূল্য ২১৩ কোটি ৭২লাখ ৬৭ হাজার টাকার বিপরীতে ইতোমধ্যেই ১৩৭ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা অর্থাৎ ৬৪ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আইএমইডিকে জানান, ঠিকাদারকে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকেই প্রোগ্রেস পেমেন্ট প্রদান করা হয়েছে। তা ছাড়া ঠিকাদারের পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চুক্তি বাতিল হওয়ায় নতুনভাবে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ করে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় প্রয়োজন। এতে প্রকল্পের মেয়াদ অধিক বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে। তাই সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এসব অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে সোনাবাহিনীকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সেনাবাহিনীকে অনুরোধও করা হয়েছে।

গেল বছরেই প্রকল্প পরিদর্শন করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মুল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। ফিরে গিয়ে তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে ৬ মাস সময় বাড়ানোর কথা বলা হয়। এ ছাড়া অসমাপ্ত দুটি রেলওয়ে ওভারপাস আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সবকিছুই দ্রুত করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

খরচের হিসাবটিও সামনে আনা হয় প্রতিবেদনে। আইএমইডি জানাচ্ছে, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত , ২ হাজার ১৬৮ কোটি৩৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এরপর তিন দফায় সংশোধন করে একবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রকল্পটির সর্বশেষ অনুমোদিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে হাজার ৮১৬ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং মেয়াদ ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই প্রকল্পটির ব্যয় মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় হাজার ৬৪৮ কোটি  ৫৫ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থাৎ ৭৬ দশমিক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ মূল অনুমোদিত মেয়াদের তুলনায় বছর মাস অর্থাৎ শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় কাজ শেষ না হওয়ায় আরও মাস সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।