সংসদে ক্ষমা চাইলেন ইনু


inu 2_0

টিআর ও কাবিখা নিয়ে দুর্নীতির বিষয়ে সংসদ সদস্যদের জড়িয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার রাতে সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি সব সংসদ সদস্যের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে রোববারের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি গণমাধ্যমে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য এসেছে, সেজন্য আমি ক্ষমা চাইছি, আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

কয়েকজন সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে স্পিকারের রুলিং জারির আবেদন জানান। সেসময় তারা বলেন, তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যদের তথ্য প্রমাণ ছাড়াই অপমান করেছেন।

দুপুরে টিআর-কাবিখার বিষয়ে হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে মন্ত্রিসভার সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুসহ কয়েকজন মন্ত্রীর তোপের মুখে পড়েন তথ্যমন্ত্রী।  অনির্ধারিত আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (ইনু) সবাইকে চোর বানিয়েছেন। উনি তো নিজেকেও চোর বানিয়েছেন। সবাই খেলে (টিআর-কাবিখা আত্মসাৎ) উনিও খেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্তব্য করেন যে, ‘তির ছেড়ে দিলে এবং মুখের কথা বেরিয়ে গেলে ফিরে আসে না।’

এ আলোচনার এক পর্যায়ে তথ্যমন্ত্রী আত্মপক্ষ সমর্থন করে টিআর-কাবিখা নিয়ে তিনি এভাবে কথা বলতে চাননি বলে দাবি করেন। সে সময় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, এভাবে বলিনি—এটা বলার কোনো সুযোগ নেই। যখন রেকর্ড দেখাবে, তখন কী বলবেন?

এছাড়া শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘২০০৯ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এক ছটাক গম খেয়েছি—এ কথা কেউ বললে ও প্রমাণ করলে পদত্যাগ করব। এভাবে সবাইকে চোর বানানো ঠিক হয়নি। এ কথা বলে তিনি (তথ্যমন্ত্রী) সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছেন।

তাছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআর-কাবিখা বিষয়ক সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

এতে বলা হয়, ‘রোববার দুপুরে ঢাকায় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ সামিট- টেকসই উন্নয়ন ২০১৬’ সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যে টিআর-কাবিখা প্রসংগে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে মন্ত্রী কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি হলে কিংবা কেউ এতে দুঃখ পেয়ে থাকলে তা অনভিপ্রেত বলে জানান এবং সেক্ষেত্রে নিজেও দুঃখ প্রকাশ করেন।’

প্রসঙ্গত, রোববার একটি অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দরিদ্রদের জন্য কর্মসূচি টিআর ও কাবিখা বরাদ্দের ৮০ শতাংশই চুরি হয়। ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলে ১৫০ কোটি টাকা (অর্ধেক) যায় এমপিদের পকেটে। বাকি ১৫০ কোটি টাকার সিংহভাগ যায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পকেটে। আমরা চোখ বন্ধ করে এ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি।’

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে পিকেএসএফ ভবনে ‘গ্লোবাল সিটিজেনস ফোরাম অন সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট সামিট ২০১৬’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইনু।