কার্যালয় সরলে জঙ্গি হামলা বন্ধ হবে কী, প্রশ্ন বিএনপির


20-07-16-Jubo Dal_Milad-5

সম্প্রতি গুলশানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পরে কূটনৈতিকপাড়া থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরিয়ে দেওয়া নিয়ে সরকারের চিন্তার সমালোচনা করছে বিএনপি। একইসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সরিয়ে নিলে দেশে জঙ্গি হামলা বন্ধ হবে কী না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, কার্যালয় সরালে কোথাও জঙ্গি হামলা হবে না, সরকার এমন নিশ্চয়তা দিতে পারবে কী না?

বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব বলা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ছেলে আরাফাত আব্দুল্লাহ অন্তরের সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপির একটি কার্যালয় (খালেদার কার্যালয়) সরিয়ে দিয়ে বিএনপিকে স্তব্ধ করা যাবে না। তখন ঢাকাসহ সারা দেশের ঘরে ঘরে দেশনেত্রীর কার্যালয় তৈরি হবে।’

সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে আব্বাস বলেন, ‘দেশবাসীকে এমন কোনো গ্যারান্টি কি দেয়া হবে যে, গুলশান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় সরিয়ে দিলে দেশে আর কোনো ঘটনা (সন্ত্রাসী হামলা) ঘটবে না, এমনকি ক্রসফায়ারেও কেউ খুন হবে না? গুলশান থেকে দেশনেত্রীর কার্যালয় সরানোর পরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে?’

প্রসঙ্গত, গুলশান হামলার পর কূটনৈতিক এলাকা থেকে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় সরানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। একইসঙ্গে কূটনৈতিক এলাকায় সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ-মিছিল ও ঘেরাও কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দফতর সরকারকে এ বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গুলশান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং বনানী থেকে এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টির কার্যালয় সরাতে হবে।

অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘গুলশান ও শোলাকিয়ায় সম্প্রতি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুলশানের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় ওখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে। আমি কিছুক্ষণ আগে শুনলাম, এখনো টেলিভিশনে দেখিনি। যদি তাই হয়, তাহলে আমার প্রশ্ন- কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল, তার পরিপ্রেক্ষিতে ওখান থেকে কী বিএনপির অফিস সরিয়ে দেয়া হবে? কিংবা সারাদেশে বিএনপির যে অফিসগুলো আছে, সবগুলোই কি সরিয়ে দেয়া হবে?’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘সারাদেশে বিএনপির প্রতিটি কার্যালয়ই হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়। সেটা কোথাও আবাসিক এলাকাতে, আবার কোথাও বাণিজ্যিক এলাকায়। কোনো রাজনৈতিক দলের অফিস কোন এলাকায় থাকবে, সরকার থেকে এমন কোনো দিক-নির্দেশনা কখনো দেয়া হয় নাই। সংসদ থেকেও এমন কোনো আইন পাস হয় নাই।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করেন, ‘বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে সরকার দলটির চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় সরাতে চায়। সরকার যদি নিশ্চয়তা দেয় যে কার্যালয়টি সরালে এ ধরনের জঙ্গি হামলা ঘটবে না, তাহলে কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হবে’।

জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনার পর উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে জাতি আতঙ্কিত। জাতি এখন ঐক্যবদ্ধভাবে এ সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিঃস্বার্থভাবে সংকট সমাধানে জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছেন। কিন্তু তাকেই বলা হচ্ছে জঙ্গিবাদের নেত্রী।

মোনাজাতপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ। আলোচনা শেষে রিজভী ও অন্তরের সুস্থতায় কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আব্দুল মালেক। মোনাজাতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুগ্ম-সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, উত্তরের সহ-সভাপতি কফিল উদ্দিন ভুইয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য গিয়াস উদ্দিন মামুন; ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।