দল-মত নির্বিশেষে এক টেবিলে বসুন: ইমরান


JM

জঙ্গিবাদ দমনে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।

বুধবার বিকেল শাহাবাগের গণজাগরণ মঞ্চের আয়োজনে দেশব্যাপী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এক বিক্ষাভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এ আহবান জানান।

ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘ক্ষমতার মোহে আমরা একে অপরকে দোষারোপ করছি, কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছি। ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরা যদি এখনও মনে করি নিরাপদে আছি, সেটা হবে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীকে দানবে পরিনত করেছে আমাদের রাষ্ট্র, শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলো। যে কারণে আজকে তারা প্রকাশ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করতে সাহস পাচ্ছে। আমরা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেও চেতনার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নেই। তাই জঙ্গিবাদীরা এতো শক্তি পাচ্ছে। সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে আজ ইরাক, সিরিয়ার সাথে তুলনা করছে।’

ইমরান বলেন, যত ভুলভ্রান্তি থাকুক না কেন সেই ভুলগুলোকে খুঁজে বের করে সংশোধন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করে আমাদের সামনের দিকে এগোবার পথ খুঁজতে হবে। না হলে দুস্কৃতকারী, ষড়যন্ত্রকারী ওত পেতে আছে, সুযোগ পেলেই তারা আজকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর হামলে পড়বে এটি পরিষ্কার।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কথা থাকলেও পাঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে উল্টো পথে যাত্রা শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র আরও বলেন, সকল রাজনৈতিক দল মত নির্বিশেষে আপনার এক টেবিলে বসুন, আমরা নতুনভাবে আবারও শপথ গ্রহণ করি, যেকোন মূল্যে এই দেশকে আমরা রক্ষা করি।

জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য রাষ্ট্রকে আপাদমস্তক একটা ব্যবস্থা নিতে হবে, পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করে আমাদের সামনের দিকে এগোবার পথ খুঁজতে হবে।

সমাবেশ শেষে শাহবাগ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে শাহবাগে ফিরে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জয়ন্ত আচার্য, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, কলামিস্ট মমতাজ লতিফ, রাশেদ রহমান প্রমুখ।