সাদা ককসিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য


Untitled_3

সাদা ককসিট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ১ হাজার ৭১টি ভাস্কর্য। তবে শুধুমাত্র সৌন্দর্য অভিমুখে নয়, এর গন্তব্য ইতিহাসের দিকে। ১৯৭১ এর নয় মাসে পাক বাহিনীর চরম বর্বরতা ফুটিয়ে তুলতেই এই শিল্প আয়োজন।

একজন ফ্রিল্যান্সার শিল্পীর উদ্যোগে দুই বছর ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিল্পসাধনা। আর তাকে সাহায্য করছে ২৫ সহযোগী। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে সবার জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে এই শিল্পপ্রকল্প।

১৯৭১ এর নয় মাস, পাক বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে শহরে, গ্রামে, টিলায়, নদীতে, ক্ষেত ও খামারে। আমাদের মগজের কোষে কোষে পুঁতেছিল আপনজনের লাশ, দগ্ধ, রক্তাপ্লুত।

ককসিটে কেটে তৈরি মূর্ত করে তোলা হচ্ছে সেই সব স্মৃতিকে। শিল্পবোধ আর একান্ত ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার মিশেলে তৈরি যে শিল্প, তা আমাদের নিয়ে যায় ৭১ এর দীর্ঘ নয় মাসের বর্বরতার স্পষ্ট অবয়বে। যারা এই শিল্পসাধনায় সামিল, তাদের শৈল্পিক চেতনাপ্রসূত ভাবনা দীপ্ত হয়ে ওঠে নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষায়। তাই উচ্ছ্বাস যেমন রয়েছে তেমনি আবেগও কম নেই।

অগণন উপাদান, বিস্তৃত উপকরণ এবং অপার সম্ভাবনা থেকেই উঠে আসে শিল্পিত বস্তু। আর শিল্পীকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে এর দায় মেটাতে হয়। তাই তো ভাস্কর মিন্টু দে’র ভাবনায় শুধুমাত্র শিল্প নয় মূর্ত হয়ে উঠেছে একাত্তরের গণহত্যার অসীম বেদনাও।

এ ব্যাপারে ভাস্কর মিন্টু দে বলেন, ‘পুরো একটি গ্রাম এ ভাস্কর্যগুলো দিয়ে তৈরি করা হবে, যার একপাশ দিয়ে ঢুকে অন্যপাশ দিয়ে বের হয়ে এলে পুরো ৭১ সালের ভেতর দিয়েই একজনঘুরে আসতে পারবে। এ কাজে ঢাবি উপাচার্য তার বাসভবনে আমাদের কাজ করার সুযোগ দিয়ে অনেক বড় উপকার করেছেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ ব্যাপারে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে আমাদের নতুন প্রজন্মকে একটি দৃঢ় বন্ধনে যুক্ত করতে এমন উদ্যোগ আরও প্রয়োজন। মিন্টু দে আমাদের সবার পক্ষ থেকে এমন কাজটিই করছেন।’