পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিতে নিউজিল্যান্ড


নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশাল রানের তাড়া করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো পাকিস্তান। মঙ্গলবার কিউদের কাছে ২২ রানে হেরেছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। এদিন প্রথমে ব্যাট করে মার্টিন গাপটিলের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৮০ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ৫ উইকেটে ১৫৮ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। এর ফলে ২২ রানের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় শহীদ আফ্রিদির দলকে।

শুধু তাই নয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচের মাত্র একটিতে জয় আর বাকী দুই ম্যাচে হারায় এখন টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পাকিস্তান! তবে এখনও আশা ছাড়তে নারাজ আফ্রিদি-মালিকরা। বিশ্বকাপের সুপার টেনের দ্বিতীয় গ্রুপে একমাত্র দল হিসেবে তিন ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। অথচ মোহালিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল পাকিস্তান।

উদ্বোধনী জুটিতেই ৬৫ রান তুলে ফেলেন শারজিল খান ও আহমেদ শেহজাদ। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৭ রানে শারজিল খান এবং ৩০ রানে শেহজাদ ফিরে গেলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন তারা। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট পড়তে থাকলে ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান। উমর আকমল ২৪ এবং অধিনায়ক আফ্রিদির ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে ২টি করে উইকেট লাভ করেন মিচেল স্যান্টনার এবং অ্যাডাম মিলনে।

এর আগে মোহালির বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক উইলিয়ামসন। প্রথম দশ ওভারে দুই উইকেটে ৮১ আর শেষ দশ ওভারে তিন উইকেটে ৯৯ রান করে ‍ব্ল্যাক ক্যাপসরা। উদ্বোধনী জুটিতে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভারে ৫৫ রান তোলেন গাপটিল ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। অষ্টম ওভারের মাথায় উইলিয়ামসনকে (১৭) ফিরিয়ে কিউইদের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান মোহাম্মদ ইরফান। পরের ওভারেই কলিন মুনরোকে (৭) শারজিল খানের ক্যাচে পরিণত করেন শহীদ আফ্রিদি।

তবে অপর প্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন গাপটিল। ১৫তম ওভারের মাথায় মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হওয়ার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৮০ রানের ‘বিস্ফোরক’ ইনিংস। তাতে ছিল ১০টি চার ও ৩টি ছক্কার মার। লুক রনকিকে (১১) সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৩২ রান যোগ করেন রস টেইলর। ২৩ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন টেইলর। তার আগে ১৪ বলে ২১ রান করে আউট হন কোরি অ্যান্ডারসন।

নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা। পাকিস্তানের হয়ে দু’টি করে উইকেট নেন সামি ও আফ্রিদি। ইরফান একটি উইকেট লাভ করেন।