শ্যালা নদীতে এবার কয়লাবাহী জাহাজডুবি


tanker

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে এবার ‘এমভি সি-হর্স-১’ নামের একটি কয়লাবাহী লাইটারেজ জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার সন্ধ্যায় পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের তাম্বুলবুনিয়া এলাকার শ্যালা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে এতে হতাহতের কোনো খবর বন বিভাগ নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি। একইভাব লাইটারেজ ওই জাহাজে কী পরিমাণ কয়লা, জ্বালানি তেল আর কতজন ক্রু ছিল সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম ঘটনা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে কয়লাবাহী এমভি সি-হর্স-১ লাইটারেজ জাহাজটি বাগেরহাটের শরণখোলার বলেশ্বর নদী হয়ে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৫টার দিকে চাঁদপাই রেঞ্জের তাম্বুলবুনিয়া ক্যাম্পের কলামূলা এলাকায় পৌঁছালে শ্যালা নদীতে কয়লা বোঝাই কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়।
তার মতে, শ্যালা নদীর ওই এলাকায় একটি ডুবন্ত লঞ্চের মস্তুলে আঘাত লেগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে কার্গো জাহাজটি কী পরিমাণ কয়লা ও জ্বালানি তেল বহন করছিল তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি বন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম। তাছাড়া জাহাজে কতোজন ক্রু ছিল তাও জানা যায়নি।
ওই বন কর্মকর্তা আরও জানান, কয়লাবাহী জাহাজডুবির খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলোর কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান চালাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
এর আগে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে শ্যালা নদীতে তেলবাহী একটি জাহাজ ডুবে সুন্দরবনের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানায় জাতিসংঘ। এ ঘটনায় সুন্দরবনের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অনুসন্ধানে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সুন্দরবন পরিদর্শন করে।
শনিবার সুন্দরবনে কয়লাবাহী কার্গো জাহাজ ডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে সকল প্রকার নৌযান চলাচল দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুন্দরবনে একের পর এক জাহাজ ডুবির ঘটনার পরও সরকার এর ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করেনি। এতে ক্ষতি ও হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে যেন আর কোনো যৌনযান চলাচল করতে দেয়া না হয় সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে সাড়ে তিন লাখ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে ওটি সাউদার্ন স্টার জাহাজ ডুবে যায়। ঘটনার পরে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি শ্যালা নদীতে নৌচলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করে। পরবর্তীতে আবারো শ্যালা নদীতে নৌ চলাচল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।