প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে, সংসদ হবে দ্বিকক্ষের: বেগম খালেদা জিয়া


Khaleda zia

সংসদীয় গণতন্ত্র আরো শক্তিশালী ও জবাবদিহিতামূলক করতে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া। ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে ‘ভিশন ২০৩০’নামে একটি পরিকল্পনার খসড়া তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, তাঁদের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ডলার। প্রবৃদ্ধি হবে দুই অঙ্কে। খালেদা জিয়া বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। এই অবস্থার অবসানকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।’ তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে সংস্কারের কথা বলেন। সকল স্তরে ব্যাপক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে সুশাসনের সহায়ক পরিবেশ করে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন। খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি দুর্নীতির সাথে আপোস করবে না। দুর্নীতি বন্ধ করতে ন্যায়পাল আবারো কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিএনপি সবসময় তৎপর। সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমরা একযোগে কাজ করে যাব। দেশের ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা মেনে নিবে না। এর বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে কার্যকর ব্যবস্থা নিবে।’ তিনি বলেন, শুধু ধনীদের নয়, দরিদ্রদের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এক দশকের মধ্যেই দেশ থেকে নিরক্ষতা দূর করা হবে। বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষাকেও আধুনিকায়ন করা হবে। শিক্ষা বিস্তারের জন্য আলাদা টিভি চ্যানেল খোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন খালেদা জিয়া। বলেন, মেয়েদের স্নাতক এবং ছেলেদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবনৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার গুরুত্বের কথা বলেন তিনি। প্রতিহিংসা, প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে বিএনপি নতুন ধারার রাজনীতি ও সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এ জন্য নতুন ধরনের সমঝোতা চুক্তিতে উপনীত হতে বিএনপি উদ্যোগ নেবে। কাউন্সিলে বক্তব্যের শুরুতে খালেদা জিয়া স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ভারতসহ অন্যান্য দেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানসহ সব নেতাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’—স্লোগান নিয়ে এবারের সম্মেলন হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কাউন্সিলররা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ডেলিগেটরা বসেছেন।