চলতি বছরে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর


pmo3350_165488

চলতি বছরের মধ্যে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধনকালে এ ঘোষণা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে বিশ্বের বুকে উন্নত একটি জাতি হিসেবে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৬ সালের মধ্যে ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩১ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্রামে বিদ্যুতায়ন, সেতু, রেলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার এসব উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে শেখ হাসিনা বলেন, নতুন চার বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে যাবে। দেশের সব মানুষের বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌছেনি সেখানে সৌর বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। প্রথমে তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় ৯০টি গ্রামের ৬০০০ পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভি চট্টগ্রাম লিমিটেড, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ার ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট লাকধানাভি বাংলা পাওয়ার লি., গাজীপুরের কড্ডার ১৫০ মেগাওয়াট বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ারজেন লি. এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি (এসটি ইউনিট) বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। পটুয়াখালী জেলায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে নবনির্মিত শেখ কামাল সেতু ও শেখ জামাল সেতু, সিলেট সড়ক জোনে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ইবিবিআইপি) আওতায় নবনির্মিত ১৬টি সেতু, সিগনালিং ব্যবস্থাসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ২য় রেললাইনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সোনাকান্দা পানি শোধনাগারেরও উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এছাড়াও তিনি জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন। প্রসঙ্গত ৯শ’ মিটার দৈর্ঘের শেখ কামাল সেতু নির্মাণে ৬৫ কোটি টাকা এবং ৫শ’ মিটার দৈর্ঘের শেখ জামাল সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা। এছাড়া নবনির্মিত ১৬ সেতুর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী ‘পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ কামাল সেতু, শেখ জামাল সেতু ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট শেখ রাসেল সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেন।