রিমান্ড শেষে কারাগারে ‘ইসলাম বিতর্ক’ বইয়ের প্রকাশক


aaa

তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে‘ইসলাম বিতর্ক’ নামে বইয়ের প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম মারুফ হোসেন সোমবার শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন। শুনানির সময় ‘ব-দ্বীপ প্রকাশনী’র এই প্রকাশকের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন ও কারাগারে তার চিকিৎসার আবেদন জানান। এর মধ্যে জামিন আবেদনের শুনানি নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে বিচারক আবেদনটি ফিরিয়ে দেন। তবে সত্তরোর্ধ্ব এই প্রকাশকের চিকিৎসার বিষয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয় আদালত। রিমান্ড ফেরত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, ওই বইগুলোতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশক স্বীকার করেছেন। বইগুলো অধ্যয়ন করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনের মাধ্যমে তা আদালতকে অবহিত করা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। ‘ইসলামে বিতর্ক’ বই প্রকাশের জন্য তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় বইটির সম্পাদক ও ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী শামসুজ্জোহা মানিক, ছাপাখানা শব্দকলি প্রিন্টার্সের মালিক তসলিম উদ্দিন কাজল ও ব-দ্বীপ প্রকাশনীর বিপণন শাখার প্রধান শামসুল আলমকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির করে রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার পরিদর্শক জাফর উল্লাহ বিশ্বাস। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে শামসুজ্জোহাকে পাঁচ দিন, তসলিমউদ্দিনকে দুদিন ও শামসুল আলমকে একদিন হেফাজতে রাখার অনুমতি দেয় আদালত। এ মামলায় ইতোমধ্যে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির বিপণন প্রধান শামসুল আলমকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ব-দ্বীপ প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘ইসলাম বিতর্ক’ নামের বইয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো লেখা আছে অভিযোগে বইমেলা থেকে বইটির সব কপি পুলিশ জব্দ করে। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো লেখা আছে কি না- তা অনুসন্ধানে একই প্রকাশনী থেকে আরও পাঁচটি বইয়ের সব কপি জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্যজন ও সিন্ধু সভ্যতা’, ‘জিহাদ: জবরদস্তিমূলক ধর্মান্তরকরণ, সাম্রাজ্যবাদ ও দাসত্বের উত্তরাধিকার’, ‘ইসলামের ভূমিকা ও সমাজ উন্নয়নের সমস্যা’, ‘ইসলামে নারীর অবস্থা’ এবং ‘নারী ও ধর্ম’।