বিচারপতিদের নিয়ম-নীতি মেনে চলার আহ্বান প্রধান বিচারপতির


sk_39841

সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান বিচারপতিদের আদালতের নিয়মকানুন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বুধবার একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানির সময় এসব কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। বুধবার মীর কাশেমের আপিল মামলা শুনানিতে এলে তার আইনজীবী হিসেবে নজরুল ইসলাম আপিল বিভাগে পেপারবুক পড়ে শোনান। এ প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন প্রদান বিচারপতি। নজরুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে অবসর-পরবর্তী ছুটিতে (পিআরএল) রয়েছেন। অবশ্য তার আগে কিছুক্ষণ মীর কাশেমের অন্য এক আইনজীবী এসএম শাহজাহান কিছু সময় পেপারবুক পড়েন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে এ মামলার শুনানি হচ্ছে। এ বেঞ্চের অপরবিচারপতিরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে মীর কাসেম আলীর আপিলের শুনানি দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়। তখন তার পক্ষে পেপারবুক পড়েন নজরুল ইসলাম চৌধুরী।হাইকোর্টের এ বিচারপতি এখনো সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন। থাকছেন সরকারি বাড়িতেই। এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান বিচারপতিদের আদালতের প্রথা ও নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।’ অবসর গ্রহণের পর অনেক বিচারপতিই আছেন যারা হাইকোর্টে বিভাগে প্র্যাকটিস করছেন। তবে অবসর গ্রহণের কতদিন পর একজন বিচারপতি আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাবেন এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মীর কাসেম আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। তার বিরুদ্ধে আনা মোট ১৪টি অভিযোগের মধ্যে ১০টিতে তাকে সাজা দেয়া হয়। ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মীর কাসেম আলীর খালাস চেয়ে আপিল আবেদন দায়ের করেন তার আইনজীবীরা। আপিল আবেদনে ১৮১টি যুক্তি দেখিয়ে মীর কাসেম আলীর খালাস চাওয়া হয়।