‘মজুদ গ্যাসে চলতে পারে ১০-১২ বছর’-নসরুল হামিদ


nasrul hamidded

গ্যাসের বর্তমানে যে মজুদ রয়েছে (নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কার করা না গেলে) তা দিয়ে আগামী ১০ থেকে ১২ বছর চলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি বলেন, জনগণের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করতে সরকার কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি মঙ্গলবার সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের পয়েন্ট অব অর্ডারে জ্বালানি তেলের মূল্য কমানোর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরে আবাসিক খাতে পাইপ লাইনের গ্যাস ব্যবহার হ্রাস করে ৭০ ভাগ এলপিজি ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এ জন্য পাইপ লাইনের গ্যাস ও এলপিজির দামের মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে পাইপ লাইনে গ্যাস ব্যবহারকারীদের মাসে ব্যয় হয় ৬শ’ টাকা। অথচ এলপিজি ব্যবহারকারীদের দেড় থেকে আ্ড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। এ ব্যবধানের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হবে। আর সিএনজি শিল্পখাতে ব্যবহার করা হবে। নসরুল হামিদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জেট ফুয়েল ও ডিজেল আমদানি করে থাকে। গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া তেলকে রিফাইন করে দেশে পেট্রোল উৎপাদন করা হয় বলে তা আমদানি করতে হয় না। দেশে বছরে ২ লাখ ৮০ হাজার টন পেট্রোল উৎপাদন করা গেলেও বর্তমানে পেট্রোলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ১ লাখ ২০ হাজার টন উৎপাদন করা হচ্ছে। তিনি জ্বালানি তেলের দাম কমানো প্রসঙ্গে বলেন, বিশ্ব বাজারে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তারপরও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দাম কমায়নি। তিনি জানান, বিশ্ব বাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি ছিল তখন বিপিসি ভর্তুকি দিয়ে কম মূল্যে জনগণকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ করেছে। যার জন্য বিপিসি দেনা হয় ৩২ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে বিপিসি দাম না কমানোর ফলে অতিরিক্ত ১০ কোটি টাকা লাভ করে। এ থেকে দেনা দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নিজস্ব তহবিলে জমা রয়েছে। তিনি জানান, এ অর্থ চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপ লাইন নির্মাণ, গভীর সমুদ্র থেকে চট্টগ্রাম ডিপো ও ইস্টার্ন রিপাইনারীতে পাইপ লাইন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। এ সব নির্মাণ হলে সরকারের বছরে ১ থেকে ২শ’ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। এদিকে আজ সংসদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম রিপোর্ট কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৪-১৫ উপস্থাপন করেন।