নিঅম: হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে ‘ভবিষ্যতের শহর’ বানাচ্ছে সৌদি


 

রাতের আঁধার কাটাতে আকাশে থাকবে কৃত্রিম চাঁদ, চলবে উড়ন্ত ট্যাক্সি, বাড়িঘর পরিষ্কার করবে রোবটেরা। পুরো শহরে দূষণের চিহ্নমাত্র থাকবে না! বিলাসবহুল জীবনযাপনের সব উপকরণই মিলবে ভবিষ্যতের এই শহরটিতে। এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছে সৌদি আরব।

মেগা এই শহরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নিঅম’। সৌদির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিশাল এলাকা জুড়ে লোহিত সাগরের তীরে গড়ে উঠছে সেটি। নির্মাতাদের দাবি, প্রায় ৩৩টি নিউইয়র্কের সমান হবে নতুন এই শহরের আকার।

jagonews24

 

নিঅম প্রকল্পের আওতায় শহরের মধ্যে থাকবে আরেকটি শহর। ১০০ মাইল দীর্ঘ বিলাসবহুল এই এলাকাকে ডাকা হবে ‘দ্য লাইন’ নামে। সেখানে বসবাস করতে পারবেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছিলেন, বিলাসবহুল এ প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালে শেষ হতে পারে।

ভবিষ্যতের শহর
জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌদি আরবের আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে যুবরাজ সালমান যে ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা নিয়েছেন, তারই অংশ হিসেবে তৈরি হচ্ছে নিঅম শহর।

লোহিত সাগরের তীরে ২৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে ‘নিঅম’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সৌদি সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

jagonews24

 

কী থাকছে শহরটিতে
নিঅম নামটি নেওয়া হয়েছে গ্রিক শব্দ নিও এবং আরবি মুসতাকবাল শব্দ থেকে। নিও অর্থ নতুন আর মুসতাকবাল অর্থ ভবিষ্যৎ। অর্থাৎ এই দুটো শব্দের সমাহারে শহরের নাম রাখা হয়েছে ‘নিঅম’ বা ‘ভবিষ্যতের শহর’।

নিঅম-এর ওয়েবসাইটে শহরটি সম্পর্কে বলা রয়েছে: ‘ভবিষ্যৎ এখানে নতুন ঠিকানা পেয়েছে।’

রাতের বেলা নিঅমের আকাশে থাকবে বিশাল কৃত্রিম চাঁদ। আসল চাঁদের মতোই তার আলোয় আলোকিত হয়ে থাকবে গোটা এলাকা।
সেখানে কৃত্রিম মেঘ তৈরির প্রযুক্তি থাকবে। এর মাধ্যমে মরুভূমির বুকেও শহরটিতে ইচ্ছামতো বৃষ্টিপাত ঘটানো হবে।

লেখাপড়ার জন্য থাকবে হলোগ্রাফিক শিক্ষক, যেমনটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে দেখা যায়। নিঅমে তৈরি হচ্ছে জুরাসিক পার্কের মতো একটি দ্বীপও, যেখানে রোবট ডাইনোসরের দেখা পাওয়া যাবে।

সৌদি সরকার বলছে, নিঅমের মানুষজন উড়ন্ত ট্যাক্সিতে চলাফেরা করবেন। তাদের বাড়িঘর পরিষ্কার করে দেবে রোবট।

দৃষ্টিনন্দন করা জন্য লোহিত সাগরের সৈকতেও অনেক পরিবর্তন আনা হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, সেখানকার সৈকতগুলোতে রাতের বেলা বালু জ্বলজ্বল করবে।

jagonews24

 

সৌদি যুবরাজের ইচ্ছা, প্রযুক্তির দিক থেকে নিঅম হবে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির মতো, বিনোদনের দিক থেকে হলিউড আর অবসর কাটানোর জন্য ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার মতো।

শহরের ‘নিঅম বে’ এলাকায় এরই মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। এটিকে প্রথম দফার প্রকল্প বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে নিঅম বিমানবন্দরের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতিও পেয়েছে।

জানা গেছে, নিঅম শহরের নিয়মকানুনও সৌদি আরবের অন্য এলাকাগুলোর থেকে কিছুটা আলাদা হবে। সেখানকার আইনি ব্যবস্থা সরাসরি সৌদি বাদশাহর কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

বাসস্থান হারাচ্ছে হুয়াইত গোষ্ঠী
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, যে এলাকায় নিঅম শহর গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে সৌদি হুয়াইত গোষ্ঠীর প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। শহরটির জন্য তাদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ‘ভবিষ্যতের শহর’-এর জন্য হুয়াইত গোষ্ঠীর মানুষের ভবিষ্যৎ ঠিকানা কোথায় হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।