৭০ শতাংশ ভূমির নিয়ন্ত্রণ এক শতাংশ খামারির হাতে: গবেষণা


দুনিয়ার মোট ফসলের মাঠ, কিংবা কৃষি খামারের ৭০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে মাত্র এক শতাংশ মানুষের হাতে। জলবায়ু ও পরিবেশ সংকটে ভূমি বৈষম্যের প্রভাব সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি এবং ভূমিহীন জনগোষ্ঠী বাড়ার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রথমবারের মতো ওই প্রতিবেদনে হিসেব করে দেখানো হয়েছে, ভূমি বৈষম্যের পরিমাণ ধারণা চেয়ে ৪১ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণাটির লেখকেরা বলছেন, এই প্রবণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে স্বল্প মেয়াদী আর্থিক কার্যক্রম। যা ক্রমেই বিশ্বের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের নির্ধারক হয়ে উঠছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

১০৮০’র দশক থেকেই গবেষকেরা দেখতে শুরু করেন ভূমির নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। মালিকানা কিংবা লিজের মাধ্যমে ভূমির মালিকানা কেন্দ্রীভূত হতে থাকার প্রবণতা খেয়াল করেন তারা। এতে চাষাবাদে বৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ১৭টি গবেষণা প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিদ্যমান তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছেন নতুন গবেষণা প্রতিবেদনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বে ভূমি বৈষম্য হিসেব করা হতো কেবল মালিকানা এবং কোনও একক খামারের আকারের ওপর ভিত্তি করে। এই হিসেবের ফলে ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত এই বৈষম্য কেবল সংকুচিত হয়েছে তারপর থেকেই এটা ব্যাপক আকার নিতে থাকে। নতুন হিসেবে আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যেমন বহুপাক্ষিক মালিকানা, ভূমির মান ও মূল্য এবং ভূমিহীন মানুষের সংখ্যাও এই হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমিহীন মানুষের সংখ্যা সর্বনিম্ন চীন ও ভিয়েতনামে। আর সবচেয়ে বেশি লাতিন আমেরিকায়। অঞ্চলটির দরিদ্রতম ৫০ শতাংশ মানুষ মাত্র এক শতাংশ ভূমির মালিক।

সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ছোট আকারের খামার রয়েছে এশিয়া ও আফ্রিকা। এই অঞ্চলে খামারে রাসায়নিক ও যান্ত্রিক কৌশল প্রয়োগের পরিমাণও বেশি। বিশ্ব জুড়ে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ খামার পরিবার কিংবা একক ব্যক্তির মালিকানাধীন। তবে বিশ্বের বাণিজ্যিক উৎপাদন কিংবা মোট ভূমির খুবই ছোট অংশ রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রণে।

গত চার দশক ধরে ছোট খামার থেকে বড় খামারে পরিণত হওয়ার প্রবণতায় বড় পরিবর্তন এসেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে। এই অঞ্চলে মালিকানা সীমিত কয়েক জনের হাতেই কেন্দ্রীভূদত হয়েছে। এমনকি ব্যক্তি খামারিরাও বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কঠিন চুক্তিতে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। আর এই প্রবণতার নেপথ্যে ভূমিকা রাখা স্বল্প মেয়াদী আর্থিক কার্যক্রম বর্তমানে উন্নয়নশীল বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানান নতুন গবেষণাটির অন্যতম লেখক ওয়ার্ড অ্যানেসিও।