বার্সায় থাকতে হলে ‘বেতন কাটা’ মানতে হবে মেসির


 

এখনও ক্লাবের দায়িত্ব পাননি তিনি, আদৌ পাবেন কি না সে বিষয়েই নেই কোন নিশ্চয়তা। অথচ দায়িত্ব নেয়ার আগেই ক্লাবের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসিকে একপ্রকার হুঁশিয়ারিই যেন দিয়ে রাখলেন বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী টনি ফ্রেইক্সা।

মেসির উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্লাবের ভালোর জন্য তাকে (মেসি) বেতন কাটার সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। গত মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ মারিয়া বার্তেমেউ পদত্যাগ করার সময় রেখে গিয়েছেন পাহাড়সম ঋণের বোঝা। যা পরিশোধের দায়িত্ব নিতে হবে নতুন বোর্ডকে।

আগামী বছরের মার্চে হবে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন। চার্লস টুসকেটসের নেতৃত্বে এখন অন্তুর্বর্তীকালীন বোর্ড চালাচ্ছে বার্সার সকল কার্যক্রম। তিনি এরই মধ্যে মেসিকে জানিয়ে দিয়েছেন, বেতন কাটার ক্ষেত্রে বিশ্বসেরা এ ফুটবলারকেও বিশেষ কোন ছাড় দেয়া হবে না।

প্রায় একই সুর ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী টনি ফ্রেইক্সার। তার গলার স্বর যেন আরেকটু। স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন, বার্সেলোনায় থাকতে হলে বেতন কেটে রাখার বিষয়টি মানতে হবে মেসিকেও। শুধু মেসি নয়, ক্লাবের সকল সদস্যকেই বেতন কাটার বিষয়ে নমনীয় থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রেইক্সা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্য এল কুরুবিতোকে ফ্রেইক্সা বলেছেন, ‘বার্সেলোনার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নেয়ার লক্ষ্যে আমরা মেসির সঙ্গে শান্তভাবে সামনাসামনি বসে কথা বলব। মেসিসহ ক্লাবের সকল সদস্যকে (যাদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হবে কিংবা নতুন চুক্তি দেয়া হবে) নতুন প্রস্তাব দেয়া হবে, যা তাদের এতদিন ধরে পাওয়া পারিশ্রমিকের সমান হবে না।’

বার্তেমেউর বার্সেলোনা বোর্ড দায়িত্ব ছাড়ার সময় রেখে গেছে ৭০০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) ঋণ। এই ঋণ পরিশোধসহ ক্লাবের আর্থিক অসঙ্গতি দূর করতে ক্লাবের খেলোয়াড় এবং অন্যান্য সদস্যদের বেতন থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো কেটে নেয়ার পরিকল্পনাই করছে অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড।

এ সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ফ্রেইক্সা। এছাড়া করোনার কারণে ক্লাবের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, ‘ক্লাবের আয় অনেক কমে গেছে। ফলে নতুন পথ খুঁজতেই হবে। এখন আর মেসি জয় করা কিংবা তাকে অন্য কিছু দিয়ে পটানোর সুযোগ নেই।’

ফ্রেইক্সা আরও যোগ করেন, ‘আমাদের এখন মেসির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে এবং দেখতে হবে উভয় পক্ষ কী চায়। আমি মনে করি মেসির খেলোয়াড়ি জীবনের অনেকটাই এখনও বাকি রয়ে গেছে। বার্সেলোনার ১২১ বছর ইতিহাস রয়েছে। আমরা সামনে এগিয়ে যাবোই।’