বাইডেন নয়, প্রচারের শেষ মুহূর্তে ট্রাম্পের লক্ষ্যবস্তু করোনা যোদ্ধারা


মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন দিন। এরইমধ্যে শুক্রবার করোনায় দৈনিক লক্ষাধিক আক্রান্তের বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। প্রতিদিনই গড়ে হাজারখানেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এই যখন পরিস্থিতি, তখন নির্বাচনি প্রচারণার এই শেষ সময়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টায় শামিল হওয়া চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবারের প্রচারণায় করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বার্তা দেন ট্রাম্প। প্রতিশ্রুতি দেন হাসপাতালগুলোতে করোনার টিকা সরবরাহের। তবে দৃশ্যত তার এদিনের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ছিলেন না। উইসকনসিনের গ্রিন বে-তে আয়োজিত নির্বাচনি তার প্রধান টার্গেট ছিলেন ডাক্তার আর করোনার বিধিনিষেধ আরোপকারী প্রশাসনের ওপর।

চিকিৎসকদের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘কোনও ব্যক্তি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তবে আমাদের ডাক্তাররা অর্থ পান।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে, তার পরিবারের একাধিক সদস্য এবং অনেক হোয়াইট হাউস কর্মচারীকে করোনার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। যদিও তার সমাবেশে অংশ নেওয়া সমর্থকদের করোনা আক্রান্ত হওয়া নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে কোনও উদ্বেগ দেখা যায়নি।

মিনেসোটার ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসন সেখানে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম কার্যকর করেছে। এর আওতায় সভা সমাবেশে উপস্থিতি ২৫০-এর মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ছোট জিনিস, তবে একটি ভয়ঙ্কর জিনিস।’

ট্রাম্প আরও বলেন, জো বাইডেন যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তবে তিনি ছুটির দিনে অথবা অন্য কোনও বিশেষ উপলক্ষে সমাবেশ করতে দেবেন না। তিনি থ্যাঙ্কসগিভিং বা ক্রিসমাসের ছুটিও উদযাপন করতে দেবেন না। ফলে আপনাদেরকে নিজেদের অঙ্গরাজ্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

জনমত জরিপগুলো বলছে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে করোনাভাইরাস। ৭৪ বছরের ট্রাম্প এবং ৭৭ বছরের জো বাইডেন দুই প্রার্থীর জন্যই একই বাস্তবতা।

জো বাইডেন শিবিরের অভিযোগ, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যার ফলশ্রুতিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের রেকর্ড যুক্তরাষ্ট্রের। এরইমধ্যে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি মানুষের। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় তিন শতাংশকে সংক্রমিত করেছে এই ভাইরাস।

এদিন বাইডেনের প্রচারণায় বিপুল সংখ্যক সমর্থক সমবেত হলেও অনেকেই গাড়ির ভেতরে ছিলেন। শুক্রবার মিলওয়াকি-র সমাবেশে তার মুখে মেডিক্যাল মাস্ক দেখা যায়, যা মাঝেমধ্যেই তার নাক থেকে সরে যাচ্ছিল। ওই সমাবেশে বাইডেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার অভিযোগ করেন ট্রাম্প।

শনিবার ট্রাম্পের পেনসিলভেনিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানকার করোনা পরিস্থিতি এখনও উইসকনসিনের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এই রাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় আট হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে‌।

এদিকে মিশিগানে জো বাইডেনের প্রচারণায় অংশ নেবেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওবামা প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বাইডেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে পেনসিলভানিয়া ও মিশিগানে সামান্য ব্যবধানে জয় পান ট্রাম্প। রয়টার্স-ইপসোস-এর জনমত জরিপ বলছে, এখনও পর্যন্ত পেনসিলভানিয়ায় পাঁচ পয়েন্ট এবং মিশিগানে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন জো বাইডেন।

এরইমধ্যে ইমেইলযোগে আগাম ভোট দিয়েছেন আট কোটি ৬০ লাখ ভোটার। এ সংখ্যা ২০১৬ সালের মোট ভোটার উপস্থিতির ৬৩ শতাংশ। তবে মেইলযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে বরাবরই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। তবে নিজের সংশয়ের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি তিনি।

আগাম ভোটদাতাদের বেশিরভাগই মূলত জো বাইডেনের সমর্থক। সে হিসেবে ট্রাম্প সমর্থকদের বেশিরভাগকেই হয়তো ৩ নভেম্বর ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাবে।