বার্সেলোনা না রিয়াল, ক্লাসিকো মহারণে কে এগিয়ে যাবে?


এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে এল ক্লাসিকোর। যাদের উন্মাদনা, গলা ফাটানো চিৎকার ও তুমুল করতালি অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে, সেই দর্শকই থাকবে না গ্যালারিতে! করোনাভাইরাস ন্যু ক্যাম্পের প্রায় এক লাখ ধারণক্ষমতার গ্যালারি ফাঁকা রাখলেও মাঠের উত্তেজনায় কমতি পড়বে না বলে বিশ্বাস রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদান। কারণ ইতিহাস-ঐতিহ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে তাদের লড়াই সব সীমা ছাড়িয়ে।

গোটা ফুটবল বিশ্বের নজর আজ (শনিবার) পড়বে ন্যু ক্যাম্পে। বার্সেলোনার মাঠেই যে প্রতীক্ষিত মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি, দেখা যাবে ফেসবুক লাইভে। এবারের মহারণের আগে হার-জিতের পরিসংখ্যানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল দুটি একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। দুই দলই জিতেছে ৯৬ ম্যাচ। অর্থাৎ, ন্যু ক্যাম্পের ম্যাচটি যারাই জিতবে, তারাই এগিয়ে যাবে।

 এই জায়গায় মাঠে নামার আগে খানিকটা এগিয়ে থাকছে রিয়াল। আজকের ভেন্যু ন্যু ক্যাম্পের সবশেষ লড়াইয়ে জয়ের হাসি ছিল সের্হিয়ো রামোসদের মুখে। তার আগের ম্যাচেও তারা জিততে দেয়নি বার্সেলোনাকে। সেই হিসেবে এবারের এল ক্লাসিকো জিতলে ২০০৮ সালের পর প্রথমবার লিগে টানা ‍দুইবার বার্সেলোনাকে হারানোর স্বাদ পাবে লস ব্লাঙ্কোস।

যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে স্বস্তিতে নেই মাদ্রিদের অভিজাতরা। ঘরের মাঠে টানা দুই হারের ক্ষত নিয়ে আতিথ্য নিতে যাচ্ছে তারা। লিগের নবাগত কাজিদের কাছে ১-০ গোলের ধাক্কার পর চ্যাম্পিয়নস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে শাখতার দনেৎসস্কের বিপক্ষে হারতে হয়েছে ৩-২ ব্যবধানে। তাতে চাকরি নিয়ে টানাটানি কোচ জিদানের। অবশ্য দুটো হারের ‘মাফ’ পেয়ে যাবেন ফরাসি কিংবদন্তি এল ক্লাসিকো জিতলে!

আর এই ম্যাচে মাঠে নামার আগে রিয়ালের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে অধিনায়ক রামোস ফেরায়। চোটের কারণে শাখতার ম্যাচ মিস করা ডিফেন্ডারের শুরু থেকেই খেলবেন। যদিও চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে জিদান পাচ্ছেন না এডেন হ্যাজার্ড ও দানি কারভাহালকে।

রিয়ালের মতো লিগের সবশেষ ম্যাচে বার্সেলোনাও হেরেছে। গেতাফে মাঠ থেকে ফিরতে হয় ১-০ গোলে হেরে। যদিও তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতি দারুণভাবে সেরে নিয়েছে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব ফেরেন্সভারোসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে। ওই ম্যাচে পাওয়া গেছে ফর্মের মেসিকে। তাছাড়া আনসু ফাতি, ফিলিপে কুতিনিয়ো ও উসমান ডেম্বেলেও আলো ছড়িয়েছেন। তবে চোটের কারণে রোনাল্ড কোম্যান এল ক্লাসিকোতে পাচ্ছেন না এক নম্বর গোলকিপার মার্ক-অ্যান্ড্রে টের স্টেগেনকে। অবশ্য হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে জোর্দি আলবার দলে ফেরাটা খুশির খবর।

গত দুই এল ক্লাসিকো ভালেভালো যায়নি বার্সেলোনার। জয় তো দূরে থাক, গোলই করতে পারেনি কাতালানরা। গোল খরা কাটিয়ে আজ রিয়ালের জালে একবার বল জড়ালেই এল ক্লাসিকোতে ৪০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবে তারা। ম্যাচটি ন্যু ক্যাম্পে হওয়ায় বার্সার পাল্লা ভারী। কেননা ২০০৭ সালের পর বার্সেলোনার মাঠে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো জেতেনি রিয়াল।

মাত্র মৌসুম শুরু হয়েছে, এখনই শিরোপা নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি। এরপরও লা লিগার শিরোপার গতিপথ কিন্তু তৈরি করে দেয় এই এল ক্লাসিকো। ৩ পয়েন্টের লড়াই রূপ নেয় ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’। পয়েন্ট টেবিলের এগিয়ে থাকার বিষয় তো আছেই, একই সঙ্গে এল ক্লাসিকো মহারণে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারও থাকছে। ন্যু ক্যাম্পের ‘যুদ্ধ’ জিতলেই ৯৭ জয় নিয়ে এগিয়ে যাবে একদল। সেটি কে- বার্সেলোনা না রিয়াল?