মধ্যবর্তী নয়, ফ্রেশ নির্বাচন চায় বিএনপি


 

মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, ফ্রেশ নির্বাচন চায় বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন মন্তব্য করেন।

রোববার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়।

কেন মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে না-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তো একথা (মধ্যবর্তী) এখনো বলিনি। আমরা গত নির্বাচন যেটা হয়েছে সেটাই তো মানছি না, আমরা ওইটাকে অবৈধ বলছি, আমরা ওটাকে বাতিল করার কথা বলছি। আপনারা দেখেন আমাদের প্রত্যেকটা স্টেটমেন্টে একথা বলেছি যে, এই নির্বাচন আমরা মানি না, এই নির্বাচন বাতিল করে নির্বাচন দেয়া হোক।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা আমরা তো বলিনি ভাই। যখন বলব তখন দল থেকে অবশ্যই বলা হবে। এখন ব্যক্তিগত ভাবে কেউ কিছু বললে, যারা সিভিল সোসাইটিতে আছেন তাদের মধ্যে কেউ বলতে পারেন-সেটা তাদের মতামত। আমরা বিশ্বাস করি যে, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। যে কারণে আমরা বলি যে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলে এসেছি, এটাতে আমরা বিশ্বাস করি।’

চাল-ডাল-পেঁয়াজ-আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারি দলের মদদপুষ্ট একশ্রেণির ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলছে। একদিকে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মসংস্থানের অভাব ও পরিস্থিতিকে আরও জটলা করে ফেলেছে।’

দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির রাশ টেনে ধরতে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থায়ী কমিটি।

‘পুলিশের ধর্ষণবিরোধী সমাবেশ লোক দেখানো’ মন্তব্য করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘সারাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংযোজন–সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়। ধর্ষকদের সরকারি দলের প্রশ্রয় অথবা ধর্ষক সরকারি দলের সদস্য বলে কোনো বিচার হয় না।’

ধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।

‘জিডিপিসহ অর্থনীতির উন্নয়ন শুভঙ্করের ফাঁকি’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আইএমএফের যে রিপোর্ট আমরা দেখছি ভারতের জিডিপি ১০ শতাংশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের জিডিপি বেশি করে দেখানো, বাংলাদেশে অর্থনীতি এতো চমৎকার ইকোনমি দেখানো–একটা সাকসেসফুল দেখানো হচ্ছে। এর পেছনে আরও অনেক উদ্দেশ্য আছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকে বাংলাদেশকে বলা হয়েছে রোল মডেল। আপনারা দেখবেন যে, একটা বিশেষ মহল জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এই রোল মডেলের কথা বলছে, এটা প্রচার করছে। যেখানে বাংলাদেশের মানুষের চাকরি নেই, বেকারত্ম, যে হারে বেকারত্ব বেড়েছে, শিক্ষিত ছেলেদের চাকরি নেই। সেক্ষেত্রে রোল মডেল কীভাবে বলবেন? কোন শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।’

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি জারি এবং গত রাতে যশোরে দলের স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য তরিকুল ইসলামের বাসভবন, জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ জেলা নেতাদের বাসায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনার নিন্দা জানান ফখরুল। যশোরের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।