প্রচারণায় ফিরে ট্রাম্প বললেন, খুব শক্তিশালী বোধ করছি


 

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ না পেরোতেই নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার দেশটির ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি এর মধ্য দিয়ে গিয়েছি। চিকিৎসকরা বলেছেন, আমার ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। আমি খুব শক্তিশালী অনুভব করছি।’

ওই সমাবেশে তাকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করতেও দেখা যায়নি বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরেই সবকিছু থেকে দূরে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাকে তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গত শনিবার প্রথমবার হোয়াইট হাউসের বারান্দা থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে তাকে ভাষণ দিতে দেখা যায়।

অপরদিকে, স্থানীয় সময় সোমবার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সানফোর্ডে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে মুখে সুরক্ষিত মাস্ক ছাড়াই উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

চলতি সপ্তাহে ছয়টি সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর মধ্যে প্রথমটিই ছিল ফ্লোরিডায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের কয়েক হাজার সমর্থক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

তবে তাদের অধিকাংশই মুখে কোনো মাস্ক ব্যবহার করেননি। সমর্থকরা কাঁধে কাঁধ মিশিয়ে সমাবেশ করছিলেন। ট্রাম্প উপস্থিত লোকজনের দিকে মাস্ক ছুড়েছেন এবং বারবার কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে কথা বলেছেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‌‘আমি এর মধ্য দিয়ে গেছি। তারা বলেছে আমার ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে। আমি খুব শক্তিশালী অনুভব করছি।’

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত প্রত্যেককে আমি চুমু দেব, আমি পুরুষদের এবং সুন্দরী নারীদেরও চুমু দেব, আমি আপনাদের বিশাল একটি চুমু দেব।’

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্লোরিডায় এই সমাবেশের মাধ্যমে ট্রাম্প টানা তিন সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণায় ফিরলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট তার ৭৭ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের চেয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছেন।

সে কারণেই নির্বাচনী প্রচারণায় উঠেপড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। করোনা পজিটিভ আসার ১৪ দিনও পার করেননি এই প্রেসিডেন্ট। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক গত শনিবার জানান যে, প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কারো করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আর কোনো ঝুঁকি নেই। এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর ট্রাম্প যেন আরও বেপোরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ট্রাম্প এখনও জানাননি যে তার সর্বশেষ কবে করোনা নেগেটিভ ধরা পড়েছে। এমনকি হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পরিস্কার কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। প্রায় ১১ দিন আগে ট্রাম্পের করোনা ধরা পড়ে। তার একদিন পরেই ওয়াল্টার রিড মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি হন তিনি।

এদিকে, বিভিন্ন জনমত জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। নির্বাচনে কাকে বেছে নেবেন মার্কিনিরা? ট্রাম্প নাকি বাইডেন? তা জানতে আপাতত নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।