মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের নৌ-পরিবহন ও নিরাপত্তা চুক্তি হচ্ছে


মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের নৌ-পরিবহন ও নিরাপত্তাবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। মিয়ানমারের নির্বাচনের আগে রবিবার এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল এমএন নারাভানে ও পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নেপিদো যাচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত কালাদান বহুমুখী প্রকল্প চালু ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।

জেনারেল নারাভানে ও শ্রিংলা মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাং ও ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চি’র সঙ্গে বৈঠক করবেন। এটি হবে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মিয়ানমারের নির্বাচনের আগে বিদেশিদের শেষ সফর।

ভারতের সাউথ ব্লকের কর্মকর্তাদের মতে, জেনারেল নারাভানে ও শ্রিংলা মিয়ানমারের নেতৃত্বের সঙ্গে উভয় দেশের সম্পর্কে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন। যাতে করে মতবিনিময়ে কোনও অসম্পূর্ণতা না থাকে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দুই দিনের এই সফরে উপকূলীয় নৌ-যান চলাচলের চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এর ফলে ভারতীয় জাহাজ সিতে বন্দর দিয়ে মিজোরাম পৌঁছাবে বঙ্গোপসাগর ও কালাদান নদী হয়ে। গত ২০ বছর ধরে এই প্রকল্প ঝুলে আছে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির আমলে এই কালাদান প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

খবরে আরও বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করবে। এছাড়া ইয়াবা ও হেরোইন পাচার বন্ধেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এছাড়া জ্বালানি খাতে ভারতীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হবে। ভারত আন্দামান সাগরে হাইড্রোকার্বন সমৃদ্ধ গভীর সমুদ্রে ১.৪ ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করবে। ভারত চায় পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামি জঙ্গিরা রোহিঙ্গা শিবিরে অনুপ্রবেশ করে উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়া ঠেকাতে।