প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, শিক্ষকদের সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার


b

অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ও মর্যাদার বৈষম্য নিরসনে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান। তবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানাননি শিক্ষক নেতারা। সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমলারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন। আমলাদেরও কথা শুনেছেন। সব শুনে তিনি নিজে বিষয়গুলো দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’ ক্লাসে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। সবার মতামতের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং জানানো হবে।’ গত ৬ ডিসেম্বর বৈঠকে অর্থমন্ত্রী শিক্ষকদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ১০ দিন পর বেতন কাঠামোর গেজেটে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। এরপর ২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন শিক্ষকরা। গত ১১ জানুয়ারি থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন শুরু করেন শিক্ষকরা। ওইদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না বলে জানিয়ে দেন। সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষকদের অবনমনের প্রতিকার ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে এ কর্মবিরতির পালন করা হচ্ছে। সান্ধ্যকালীন কোর্সগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতি চলাকালীন পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, অষ্টম বেতন কাঠামোকে কেন্দ্র করে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা গভর্নর আতিউর রহমানের আশ্বাস পেয়ে অষ্টম বেতন কাঠামো নিয়ে তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।