রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারদেনা বড় সমস্যা নয়: প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা


প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বলেছেন, ভয় পেলে চলবে না। পারিবারিক জীবনে ধারদেনা করতে হয়, সামাজিক জীবনেও ধারদেনা চলে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারদেনা কোনও বড় সমস্যা নয়।

শুক্রবার (১২ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আগামী বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘পারিবারিক জীবনে ধারদেনা করতে হয়, সামাজিক জীবনেও ধারদেনা চলে। তাই রাষ্ট্র পরিচালনায় ধারদেনা কোনও বড় সমস্যা নয়। আমেরিকার সরকারও রাষ্ট্র পরিচালনায় সে দেশের ব্যাংক থেকে অনেক টাকা ঋণ নেয়। সেই তুলনায় আমরা ব্যাংক থেকে কম ঋণ নিচ্ছি।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. সামসুল আলম, অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংযুক্ত ছিলেন।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘এখন ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার কোনও সংকট নাই। কেউ বলতে পারবে না যে ব্যাংকে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে এসেছি। দুই বছর আগে ও দুই বছর পরের চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ (তারল্য) ছিল। ৩ জুন পর্যন্ত আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা আগেও ঋণ নিয়েছি। তাতে তো কোনও সমস্যা হয়নি।

বেসরকারি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘১০০টি ইপিজেড করেছি। এরমধ্যে ১৭টি রেডি হয়ে আছে। করোনা কেটে গেলে যেকোনও সময় এই ১৭টি ইপিজেড কার্যক্রম শুরু করবে। এছাড়া রেভিনিউ জিডিপি ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করতে পারলে কত টাকা হবে, তা তো চিন্তাই করা যায় না। কাজেই তখন বিনিয়োগে কোনও সমস্যা হবে না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। আর তার জন্য প্রয়োজন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশ। ব্যাংক সুদের হার ৯ শতাংশের বেশি হলে অনেকেই দেশের বাইরে বিনিয়োগ করতে চান, যা নিয়ে এখন আর চিন্তা নাই।’ তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ দীর্ঘায়িত হলেও আমাদের কাছে ব্যবস্থা আছে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। তাই ব্যবসায়ীদের বলবো বিনিয়োগ করুন।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতি বন্ধ করতে সরকার কাজ করছে। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারিত হয়েছে। এখন টেলিমেডিসিনের সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। এর জন্য তো টাকা দরকার। তবে অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। হাত সমস্যা করলে পুরো হাত তো কেটে ফেলা যাবে না। পুরো হাত কেটে ফেললে তো সমস্যা প্রকট হবে।’