রোনালদো পেনাল্টি মিস করলেও ফাইনালে জুভেন্টাস


মিলানের দরকার ছিল একটি গোল। আর জুভেন্টাসের ড্র। দ্বিতীয়টাই সত্যি হলো আজ। তাই ১৯তম বারের মতো কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে চলে গেল জুভেন্টাস। ১৭ জুনের ফাইনালে নাপোলি না ইন্টার তাদের সামনে দাঁড়াবে সেটি ঠিক হবে আগামীকাল শনিবারের ম্যাচে।  সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হবে এই দুই দল, প্রথম লেগ জিতে (১-০) সম্ভাবনায় এগিয়ে রয়েছে নাপোলি।

ইতালিয়ানরা মাঠে ফুটবল দেখেছে সেই ৮ মার্চ। তারপর তো করোনাগ্রাসে চলমান জীবনের সঙ্গে ফুটবলও গেল স্তব্ধ হয়ে। অবশেষে প্রায় শতেক দিন পর আজ আবার ফুটবল নামলো ইতালির মাঠে। না, লিগের খেলা নয়, কোপা ইতালিয়া সেমিফাইনালের খেলা। তা হোক না, সবার আগ্রহ ছিল জুভেন্টান্স মাঠে নামছে, সবার কৌতূহল ছিল বিশ্বসেরা দুই ফুটবলারের একজন ক্রিস্টিয়ানো জুভেদের ওই সাদা-কালো জার্সি গায়ে নামছেন বলে। কিন্তু অনলাইন সম্প্রচার আর টিভি পর্দায় খেলা দেখে দর্শকেরা হতাশ। করোনা-সতর্কতার অংশ হিসেবে মাঠে দর্শক নিষিদ্ধ। তা অনেকের এটি ভালোই মনে হয়েছে, অন্তত এ ম্যাচটির জন্য হলেও। মাঠে গিয়ে এমন খেলা দেখা বিরক্তিকর। ম্যাচ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্যারি লিনেকার টুইট করলেন, ‘ এ মৌসুমে বদ্ধ স্টেডিয়ামে ইতালিয়ানদের সবচেয়ে বাজে ম্যাচের একটি দেখলাম।’

খেলায় মনে রাখার মতো ইতিবাচক কিছু নেই। তবে নেতিবাচক দুটি ঘটনা আছে, ঘটেছে পর পর। একটি পেনাল্টি, অন্যটি লাল কার্ড। কন্তির হ্যান্ডবলের দায়ে ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে পেনাল্টি পায় জুভেন্টাস। ১৬ মিনিটে রোনালদো পেনাল্টি কিক নষ্ট করেন পোস্টে মেরে। পেনাল্টির পর পরই মিলানের আন্তে রেবিচ জুভেন্টাসের দানিলোকে বিশ্রী ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। সংখ্যাগত সুবিধাটা বাকি ৭৪ মিনিটেও কাজে লাগাতে পারেনি রোনালদোর দল। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য প্রায় একইসঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হওয়া জুভেন্টাসের দুই ফুটবলার দুটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন- ব্লেইজ মাতুইদি ও পাওলো দিবালা। দুর্দান্ত সেভ করেছেন মিলান গোলকিপার দোনারুমা। একেবারে শেষদিকে মিলানও প্রতিআক্রমণে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু গোল করতে পারেনি। আর তাই তুরিনের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্র করেও শেষ হাসিটা হাসলো জুভেন্টাস। একটি অ্যাওয়ে গোল তাদের নিয়ে গেলো কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে। যে গোলটি দিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি সান সিরো থেকে জুভেদের হার বাঁচিয়েছিলেন রোনালদো। সেটাও ছিল বিতর্কিত পেনাল্টি। পার্থক্য হলো, সেদিন রোনালদো গোল করতে পেরেছিলেন, আজ পারেননি।