সংক্রমণ রোধে রেড জোন লকডাউন, গ্রিন জোনে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা


গাজীপুরে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সংক্রমণ প্রতিরোধে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করে কঠোর লকডাউন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক এ পদক্ষেপ সফল হলে জেলার সর্বত্র তা বাস্তবায়নের করা হবে। এদিকে, কাপাসিয়ার সাতটি গ্রামকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন। ওই এলাকায় ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানা ধরনের  পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জানান, কালীগঞ্জ পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (রেড জোন) ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম তরিকুল ইসলাম। শুক্রবার (১২ জুন) রাত ১২টা থেকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ এলাকায় লকডাউন কার্যকর থাকবে। এসময় ওই এলাকার সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, হাটবাজার, দোকানপাট বন্ধ থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিক জানান, তিনটি ওয়ার্ডে ৩০ হাজার লোক বাস করেন। গত ১৪ দিনে এ তিন ওয়ার্ডের  ১৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর মোট আক্রান্ত হয়েছে ৬৭ জন। এখানে আক্রান্তের হার প্রতি লাখে
৬৩ ভাগের বেশি। অথচ মহানগরের বাইরের এলাকায় প্রতি লাখে ২০ জনের বেশি হলে ওই এলাকা সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত হবে। মহানগর বা সিটি করপোরেশনের যে এলাকায় করোনা আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ৬০ জনের বেশি সেই এলাকাকে রেড জোন ঘোষণার বিধান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, লকডাউন চলাকালে ইমারজেন্সি সার্ভিস বাদে সব ধরনের গণপরিবহন, দোকানপাট, অফিস ও লোক চলাচল বন্ধ থাকবে। কাউকে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হতে দেওয়া হবে না। সব রাস্তা বন্ধ থাকবে। নিয়ন্ত্রণ করা হবে মানুষের চলাচল। এজন্য ওই তিনটি ওয়ার্ডের কাপাসিয়া মোড়, বালিগাঁও’র শেষ মাথায় এবং কদমতলী এলাকায় তিনটি চেকপোস্ট থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে ওই এলাকা হতে বের হতে হলে চেকপোস্ট হয়ে বের হতে হবে। রোগী বহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। তবে রিকশাভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে সবজিসহ কাঁচাবাজার ও মাছ বিক্রি ও সরবরাহ করা হবে।
ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, শিল্পাঞ্চল হওয়ায় গাজীপুরে করোনা আক্রান্তের হার অনেক বেশি। কিছু এলাকা বাদে এ জেলার অধিকাংশ এলাকাই এখন রেড জোন।  সংক্রমণ রোধে গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলাসহ ঢাকা উত্তর এবং
দক্ষিণ মহানগরের মোট ৫টি অধিক রেড জোন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই তিনটি ওয়ার্ডকে লকডাউন করা হয়েছে।

এদিকে, কাপাসিয়ার ৭টি গ্রামকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে উপজেলা প্রশাসন ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসমত আরা জানান, কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতটি গ্রামে প্রায় সাত হাজার লোক বসবাস করেন। গ্রামগুলো হলো দরদরিয়া, চৌড়াপাড়া, কোটের টেক, রায়েদ মধ্যপাড়া, মাহতাবপুর, বাঘেরহাট ও কালডাইয়া গ্রাম। এ গ্রামগুলোয় এখনও পর্যন্ত কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। তাই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন সাতটি গ্রামকে গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, সাতটি গ্রামে করোনা রোধে সরকারি নিদের্শনা ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য জেলা প্রশাসনকে নানা পরামর্শ দিয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। ওই এলাকার লোকজনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লোকজনের একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রবেশ বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এলাকা থেকে কেউ বাইরে যেতে বা বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। গ্রিন জোন এলাকার কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে তাদের কঠোরভাবে আইসোলেশন নিশ্চিত করা হবে। আইসোলেশনের জন্য রায়েদ ইউনিয়নের প্রাতিষ্ঠানিক মডিউল কমিউনিটি ক্লিনিক সেন্টার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাত গ্রামের মানুষের মুভমেন্ট লক্ষ্য রাখতে ৪টি ভিজিল্যান্স টিম মাঠে কাজ করবে। নমুনা সংগ্রহের জন্য দু’জন টেকনেশিয়ান মাঠে কাজ করবে। সচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিং করারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিসি এ ব্যাপারে জানান, জেলার অধিকাংশ এলাকা এখন রেড জোন। কাপাসিয়ার রায়েদ ইউনিয়নের সাত গ্রামের কেউ এখনও করোনায় আক্রান্ত হয়নি। ওই এলাকার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।