নৌঘাঁটিতে হামলায় আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র


গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার নৌঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা। সোমবার (১৮ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এই প্রমাণ পাওয়া গেছে। এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে জানিয়েছেন, কয়েক বছরের পরিকল্পনার পর ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় অভিযুক্ত সৌদি আরবের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদ আলশামরানি (২১) ২০১৫ সালে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েন বলে জানান তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার পানসাকোলা নৌঘাঁটিতে এক প্রশিক্ষণার্থীর চালানো গুলিতে তিন জন নিহত হয়। ওই সময়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে থাকা অবস্থায় সৌদি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদ আলশামরানি এই হামলা চালান বলে জানা যায়। হামলার সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাল্টা গুলিতে ওই সৌদি কর্মকর্তা নিহত হয়।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিরোধের মুখে পড়ার পর সৌদি কর্মকর্তা সাইদ আলশামরানি নিজের কাছে থাকা আইফোন গুলি করে নষ্ট করে দেয়। পরে তার জিম্মায় থাকা আরেকটি আইফোনও পাওয়া যায়। দুটি মোবাইল ফোনের তথ্য পুনরুদ্ধারে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের সাহায্য চায় মার্কিন বিচার বিভাগ। সোমবার মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার জানান, অ্যাপল অস্বীকৃতি জানালেও হামলাকারীর আইফোনের তথ্য উন্মোচনে সক্ষম হয়েছেন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, ফোন থেকে পাওয়া তথ্য ইতোমধ্যে অমূল্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, আলশামারানি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মতাদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। হামলা শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগেও ওই সৌদি কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী বার্তা পোস্ট করে।

এছাড়া ওই হামলার পর এক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে দায় স্বীকার করে আল কায়েদার ইয়েমেন শাখা। আরব উপত্যকায় কর্মকাণ্ড চালানো এই শাখাটিকে একিউএপি নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। বিশ্ব জুড়ে আল কায়েদার শাখাগুলোর মধ্যে এটিকেই সবচেয়ে বিপদজনক বলে মনে করা হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে হামলা চালানোর চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে এই শাখাটির বিরুদ্ধে।

ডিসেম্বরে নৌঘাঁটিতে হামলার পর জানুয়ারিতে সৌদি আরবের ২১ জন সামরিক শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয় মার্কিন কর্মকর্তারা। ওই সময়ে তারা জানান, একটি তদন্তে এসব শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বার্তা পোস্ট করেছেন কিংবা শিশু পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে এসেছেন বলে প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।