মৌসুমের আগে শতাব্দীর প্রথম ‘সুপার সাইক্লোন’ আম্পান


বঙ্গোপসাগরে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান আগামী বুধবার বিকেল নাগাদ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু শুরুর আগে বাংলাদেশ-ভারত উপকূলে এই শতাব্দীতে প্রথমবার আঘাত হানতে যাচ্ছে কোনও সুপার সাইক্লোন। আর এবারের ঝড়টি ১৯৯৯ সালে উড়িষ্যা উপকূলে আঘাত হানা সুপার সাইক্লোনের মতো ভয়ঙ্কর চেহারা নেবে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

১৯৯৯ সালে ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে সুপার সাইক্লোন আঘাত হানলে প্রায় নয় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। প্রাণ হারায় বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু। এরপর ২০০৭ সালের জুনে আরব সাগরে সুপার সাইক্লোন ‘গোনু’ তৈরি হলেও পরে তা ওমানের দিকে সরে যায়। ভারতের বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেটের প্রধান মহেশ পালাওয়াট জানিয়েছেন, এই শতাব্দীতে মৌসুম শুরুর আগে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া প্রথম সুপার সাইক্লোন হতে যাচ্ছে আম্পান।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সুপার সাইক্লোন আম্পানের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবারের মধ্যে এটি উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় প্রবেশ করবে। বুধবার (২০ মে) বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে এটি বাংলাদেশের উপকূলে অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উপকূলে আছড়ে পড়ার সময়ে এই অতি শক্তিশালী ঘূ্র্ণিঝড়ের গতিবেগ হতে পারেস ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার। ভারতে এই ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, দিঘা, মন্দারমণি, সুন্দরবনের সমুদ্র সৈকত এবং উপকূলবর্তী এলাকায়। ঝড়ের তাণ্ডবে কাঁচা বাড়ির ভেঙে পড়তে পারে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে, তার আগাম সতর্কতা হিসেবে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আর ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই কারণে উপকূলীয় জেলাগুলো,দ্বীপ ও চরগুলোতে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর।  উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। একইভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।