মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক মারা গেছেন


মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ৯১ বছর বয়সে কায়রোর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সাবেক এই প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার মারা যান। 

১৯৮১ সালে প্রথমবার মিসরের ক্ষমতায় আসেন হোসনি মোবারক। ২০১১ সালে আরব বসন্তের ঢেউ মিসরে আছড়ে পড়লে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ওই বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ১৮ দিনের অভ্যুত্থানে ১১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত হন মোবারক। কিন্তু অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে তার নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৩৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। ফলে ২০১২ সালে নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। তবে আপিল আদালতে বেকসুর খালাস পেলে ২০১৭ সালের মার্চে মুক্তি পান তিনি।

দেশটির সরকারি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগে হোসনি মোবারকের দেহে অস্ত্রোপচার করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়। মঙ্গলবার সেখানে মৃত্যু হয় তার।

১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া হোসনি মোবারক তরুণ বয়সে মিসরের বিমান বাহিনীতে পাইলট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭২ সালে বিমান বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হয়ে পরের বছর আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এর এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হয়ে যান তিনি। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন হন হোসনি মোবারক। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার আমলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হয়ে ওঠে মিসর। তবে তার সময়ে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পেলেও মিসরে বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও দুর্নীতি বাড়তে থাকে। আর এর জের ধরেই আরব বসন্তের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছাড়তে হয় তাকে।