মিরপুরে কখনও আসেনি ক্রিকেটের এমন দিন


বীরেরা ফিরছে বিশ্বজয় করে, সেই দুপুর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে ক্রিকেটামোদীর ভিড়। ধাতব ট্রফিটি হাতে কখন আসবেন আকবর আলীরা, অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছিল না তাদের। অবশেষে ‘চ্যাম্পিয়ন’ স্টিকারে মোড়ানো গাড়ি মিরপুরে পৌঁছাতেই বাধভাঙা উল্লাস। স্লোগান-স্লোগানে মিরপুরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের রেনু।

অপেক্ষায় ফল নাকি মিষ্টি হয়! মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা সেটিই পেলেন। তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড। সেখান থেকেই তারা সরাসরি উপভোগ করেছেন বীরদের বরণের মুহূর্ত। লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে, দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগানে বরণ করে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ীদের। আনন্দ যেন সীমাহীন।

বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জামাল ইউনুসও এই দলে। তার কাছে এই দিনটি জীবনের সেরা, ‘এর চেয়ে খুশি আমি কখনও হয়নি। এই মুহূর্তটা আজীবন মনে থাকবে।’

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বললেন, এই অর্জন অনেক পরিশ্রমের ফল। যুবাদের হাত ধরে আসার সাফল্যের ধারা সামনেও ধরে রাখার প্রতিজ্ঞা উৎসবের দিনে। বিসিবির কর্তা অনুভূতি ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘খুব ভালো লাগছে, এটা আমাদের বিনিয়োগের ফল। অনেক পরিশ্রমে এসেছে দিনটি। আশা করি ওদের হাত ধরেই আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

বিশ্বজয়ীদের বরণ করে নিতে মিরপুর স্টেডিয়ামে নানা আয়োজন। মাঠের মাঝেই বানানো হয়েছে মঞ্চ। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে মাঝের করিডোর ধরে পাতা হয়েছে লাল গালিচা, সেখান দিয়ে হেঁটেই মঞ্চ ওঠেন বিশ্বজয়ী দল। মঞ্চেই কেক কেটে তাদের জানানো হয় শুভেচ্ছা। অধিনায়ক আকবরকে কেক খাইয়ে দেন বোর্ড প্রধান নাজমুল। পরে খেলোয়াড়রা ট্রফি উঁচিয়ে উদযাপনে মাতেন সমর্থকদের সঙ্গে।

এর আগে আজ (বুধবার) বিকেল ৫টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে চ্যাম্পিয়নদের বহন করা বিমানটি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যুবাদের সঙ্গে একই গাড়িতে মিরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বিসিবি প্রধান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুরে পৌঁছায় বিশ্বজয়ীদের বহন করা গাড়ি।

হোম অব ক্রিকেটকে আগেই সাজানো হয়েছে অনেকটা বিয়ে বাড়ির সাজে।