নিরাপত্তা কোনও বিষয় নয়, হার ক্রিকেটীয় কারণেই!


এটা অনিবার্যই ছিল। মাঠের খেলা ছাপিয়ে পাকিস্তানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাই হয়ে উঠেছিল মূল আলোচ্য বিষয়!

অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর বাংলাদেশ পাকিস্তান সফরে গেছে-তিন ভাগে ভাগ করা সফরের প্রথমভাগে। ‍নিরাপত্তা-চাদরে মোড়ানো পাকিস্তান সফর শেষ করে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছে তামিম-মাহমুদউল্লাহরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হতে দেয়নি বৃষ্টি। ২ ম্যাচ খেলেই ২-০ হার, মানে অসহায় আত্মসমর্পণ। তবে কি বাংলাদেশের ফোকাস নাড়িয়ে দিয়েছিলো এই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ? নাকি নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে পারেনি বাংলাদেশ দল! পাকিস্তান সফর করে আসা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার অবশ্য বলছেন, অধিক নিরাপত্তা কোনও সমস্যা ছিলো না, বাজে ক্রিকেট খেলেই সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহদের পাকিস্তান সফরের আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনূর্ধ্ব- ১৯, নারী ক্রিকেট দল ও ইমার্জিং ক্রিকেট দলকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিলো। ২০১৯ সালে এই তিনটি দল পাকিস্তানে গিয়েছিল কাতার হয়ে, সাধারণ ফ্লাইটে। অধিক নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানে সরাসরি কোনও ফ্লাইট না থাকার কারণে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ভাড়া করা হয়, সরাসরি ফ্লাইটে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০০৯ সালে লাহোরের হোটেল থেকে শ্রীলঙ্কান দল এই গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে দলের বাসের ওপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেটি মনে রেখেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের যাওয়া-আসার সম্ভাব্য সব পথে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছিলো লাহোর পুলিশ। বাংলাদেশ দলের যাতায়াতের সময় রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা থাকতো, রাস্তার আশেপাশে কোনো সাধারণ মানুষ দেখা যায়নি। হোটেল রুমের সামনে, করিডোরে, হোটেলের বাইরে পাহারায় ছিল সশস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী। খেলোয়াড়েরা চাইলেও ইচ্ছেমতো  চলাফেরা করতে পারেননি। ক্রিকেটাররা ছিলেন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে।

এমন অবস্থায় কি নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলা সম্ভব? প্রশ্নটা উঠছেই। পাকিস্তান সফরে যাওয়া কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলে অবশ্য ভিন্নমত পাওয়া গেলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ক্রিকেটার বলেছেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব ভালো ছিলো। এত কড়াকড়িতে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা সমস্যা হলেও ম্যাচে এর কোনও প্রভাব পড়েছে বলে আমার মনে হয় না। আমরা পুরোটা সময় ম্যাচ নিয়েই চিন্তা করেছি। ভালো ফল করতে পারিনি বলেই এমন মনে হচ্ছে। ফল খারাপ হওয়ার পেছনে আমি আমাদের ব্যর্থতাকেই সামনে আনবো।’

‘এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর আগে কখনোই দেখিনি। কোথাও বসে শান্তি পাইনি। তবে এর সঙ্গে ম্যাচের ফলাফলের কোনও যোগ নেই’-বলছিলেন আরেক ক্রিকেটার।

বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও দায় দেখেছেন ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা, ‘আমরা যেমন খেলেছি, আমরা এর চেয়ে ভালো দল। এই ফরম্যাটে এখনও আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পথ খুঁজছি। আশা করি সামনেই ভালো পথ খুঁজে পাবো।’ অধিনায়কও যখন বলেন ব্যর্থতার পেছনে অধিক নিরাপত্তার কোনও প্রভাব নেই, তখন বাংলাদেশ দল নিশ্চয়ই বিভক্ত সফরের পরবর্তী অংশে ভালো ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য নিয়েই যাবে।