মেসির ১০০ তম ম্যাচে বার্সার ড্র


messi_bg_320791767 (1)

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ইতালিয়ান জায়ান্ট রোমার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সা এ ম্যাচে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম ম্যাচে রোমার মাঠ স্তাদিয়ো অলিম্পিকোতে আতিথ্য নেয়। স্বাগতিকদের বিপক্ষে এগিয়ে থেকেও ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।

প্রথমার্ধে দুই দলই একটি করে গোলে দেখা পায়। কাতালানদের হয়ে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ আর রোমার হয়ে গোল করেন ফ্লোরেঞ্জি। বিরতির পর আর কোনো গোল আদায় করতে পারেনি দুই দল।

এ ম্যাচে বার্সার কোচ লুইস এনরিক তার শিষ্যদের ৪-৩-৩ ফরমেশনে খেলাতে থাকেন। গত মৌসুমের ট্রেবল জয়ী দলের প্রথম একাদশে মাঠে নামেন টার স্টেগেন, সার্জি রবার্তো, জেরার্ড পিকে, জেরেমি ম্যাথিউ, জরদি আলবা, ইভান রেকিটিচ, বাসকুয়েটস, আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, লুইস সুয়ারেজ, নেইমার আর লিওনেল মেসি।

ম্যাচে প্রথম লিড নিতে বার্সাকে অপেক্ষা করতে হয় ২১ মিনিট পর্যন্ত। ক্রোয়েশিয়ান তারকা ইভান রেকিটিচের অ্যাসিস্ট থেকে গোল করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। গোলবারের একেবারে পাশ থেকে রেকিটিচ বল বাড়িয়ে দেন সুয়ারেজকে। গোলবারের নিচেই থাকা লিভারপুলের সাবেক তারকা হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন। ১-০তে এগিয়ে কাতালান দলটি মধ্যমাঠে দারুণ খেলতে থাকে।

তবে, সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। দশ মিনিট পরেই স্কোরলাইন ১-১ করেন রোমার আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি। নিজেদের সীমানা থেকে ডানপাশ দিয়ে দুরন্ত গতিতে বল নিয়ে ছুটে যান ফ্লোরেঞ্জি। ইতালি জাতীয় দলের ২৪ বছর বয়সী এ রাইটব্যাক ম্যাচের ৩১ মিনিটের মাথায় প্রায় মাঝমাঠ থেকে বার্সার গোলবার লক্ষ্য করে বল তুলে মারেন। নিজের গোলবার ছেড়ে এগিয়ে থাকা বার্সার গোলরক্ষক টার স্টেগেন উড়ন্ত সে বল প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন। বাকি দশজনের মতো কাতালান গোলরক্ষককেও জালে জড়িয়ে যাওয়া বল চেয়ে চেয়ে দেখতে হয়।

৩২ মিনিটের মাথায় মেসির জোরালো একটি শট রোমার গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৪৪ মিনিটে আবারো গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে রোমা। ইতালিয়ান জায়ান্টদের এবারে হতাশ করেন টার স্টেগেন। দারুণ এক সেভে লিড নেওয়া থেকে স্বাগতিকদের বঞ্চিত করেন তিনি।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ১-১ এ সমতা রেখে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ৪৮ মিনিটের মাথায় রোমার ডি-বক্সের বাইরে থেকে আলবাকে লক্ষ্য করে বল তুলে মারেন মেসি। আলবা থেকে সে বল পেয়ে যান সুয়ারেজ। তবে তার শট নেওয়ার আগেই রোমার গোলরক্ষক সাজেনসি বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। এ সময় কিছুটা আহতও হন স্বাগতিক গোলরক্ষক। রোমার মেডিকেল স্টাফের পরামর্শে মাঠ থেকেই উঠে যান সাজেনসি। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আরেক গোলরক্ষক মর্গান ডি সান্কটিস।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সাকে কোনো সুযোগ নিতে দিচ্ছিল না রোমার ডিফেন্ডাররা। তবে, নিজেদের পায়ে বেশির ভাগ সময় বল রেখে এগুচ্ছিল এনরিক শিষ্যরা।

ম্যোচের ৬১ মিনিটে রেকিটিচের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন রাফিনহা। তবে, ব্রাজিলিয়ান তারকার বেশিক্ষণ মাঠে থাকা হয়নি। মাত্র চারমিনিট মাঠে অবস্থান করেন তিনি। চোট পেয়ে ৬৫ মিনিটে তিনি মাঠ ত্যাগ করলে তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আর্জেন্টাইন তারকা হাভিয়ের মাশচেরানো।

৭৬ মিনিটে নেইমার জোরালো শট নেন রোমার পোস্টে। তবে, ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়। এক মিনিট পর মেসি পেনাল্টি এরিয়া থেকে ডানপায়ের শট নেন। আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকরের এ শটটি রুখতে পারেননি রোমার গোলরক্ষক। তবে, রুখে দিয়েছে রোমার গোলবার। পোস্টের ঠিক উপরে লেগে বল চলে যায় মাঠের বাইরে।

দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। তবে, রোমার গোলরক্ষক সান্কটিসের দৃঢ়তায় গোল আদায় করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের বাকি সময়েও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে, নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা-রোমা।