বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিশ্বব্যাপী অুনষ্ঠান করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরজুড়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করে, সারা পৃথিবীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম ছড়িয়ে দিতে চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিন শতাধিক অুনষ্ঠান আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। দেশ এবং দেশের বাইরে অনুষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন দেশের নামকরা ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকে অনুষ্ঠানে আসতে সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু তারা কবে আসবেন সে বিষয় নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গঠিত সাব-কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখাজি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স জায়েদ আল নাহিয়ান,  জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মাদ, ওআইসি সেক্রেটারি জেনারেল ও আরব লীগের সাবেক কর্মকর্তা আমির মূসা, ইউনেস্কোর সাবেক নির্বাহী প্রধান ইরিনা বুকোভাসহ অনেককেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এবং অনেকে মৌখিকভাবে আসতে সম্মতি জানিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে কাকে আনবো তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে এবং সেখানে তারা অংশ নেবেন। উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, মার্চের ২২-২৩ তারিখে সংসদে বড় অনুষ্ঠান হবে। জুলিও কুরি উৎসব হবে এবং বছরজুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথিরা আসবেন। তবে ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে আমরা নির্বাচিত অতিথিদের আনতে চাই। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে নেলসন ম্যান্ডেলা, ইয়াসির আরাফাতসহ চারজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই। এজন্য ৭৭টি মিশনে ২৬১টি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বলা হয়েছে, তারাও অনুষ্ঠান করবেন। কনফারেন্স, ওয়ার্কশপ, সেমিনারসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হবে।

আংকারা, দিল্লি, প্যালেস্টাইন, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে রাস্তার নামকরণ হচ্ছে। ১২টি বড় মিশনে চিত্রকলা প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের শিল্পীরা সেখানে যাবেন এবং বড় আকারে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার বা সেন্টার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আব্দুল মোমেন বলেন, এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার তৈরি করা হয়েছে। জার্মানি, থাইল্যান্ডে চেয়ার আছে। ক্যামব্রিজে আমরা বঙ্গবন্ধু সেন্টার করেছি। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে বঙ্গবন্ধু চেয়ার তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একজন প্রফেসরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।