ইভিএমে খরচ বেশি: ইসি সচিব


কাগজের ব্যালটের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণে খরচ বেশি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন করতে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়, ইভিএমে করলে তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়। কারণ এটা অনেক টেকনোলজি সংশ্লিষ্ট। সেখানে নানা রকম প্রশিক্ষণও দিতে হয়। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইভিএমে ভোটগ্রহণের খরচ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব আরও বলেন, ইভিএমে টেক্যনিক্যাল সমস্যা হলে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার ঠিক করতে পারবে না, ফলে সেখানে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট থাকবে। সে হিসাবে যে বাজেট আছে সেটা করা হয়। টেকনিক্যাল ট্রেনিং, ট্যাবের মাধ্যমে যারা তথ্য পাঠাবে তাদের আলাদা ট্রেনিং করাতে হয়। তবে এবার সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে ট্রেনিংয়ের যে বাজেট বা রেট সেটাই করার চেষ্টা করেছি।

ইভিএম মেশিনে কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ভোটারকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকলে ব্যালট ইউনিটে ফিঙ্গার প্রিন্ট নেই। এতে ভোটে অনিয়মের সুযোগ কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কন্ট্রোল ইউনিটে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে ব্যালট ইউনিট ওপেন হওয়ার পর গোপন কক্ষে ভোটার নিজেই উপস্থিত থাকবেন। সেখানে তার সামনে অন্য কারও ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইভিএমের কাস্টমাইজেশনে ঢাকা সিটির বাইরের ভোটারদের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এমন কোনও সুযোগ নেই। আমরাও মেশিনটি দেখেছি, এখানে সব ডাটাবেজ করা। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ইনসার্ট করতে পারবে না। ডাটাবেজে মেইন সার্ভার থাকে, সেখান থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া কেউ ডিলিটও করতে পারবে না, ইনপুটও করতে পারবে না। ঢাকা সিটির ওয়ার্ডগুলো আলাদা করে ভাগ করা আছে কে কোন জায়গার ভোটার। সেখান থেকে কমান্ড দিয়ে সিটির বাইরের কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই। যেই সিডিগুলোতে তথ্য দেওয়া আছে তা চেক করা হয়েছে, সেখানে এডিট করার সুযোগ নেই। আর ইভিএম কোনও ত্রুটি নেই। প্রোগ্রামটা সেভাবেই করা আছে। ইভিএমের কাস্টমাইজেশন যদি কেউ দেখতে চায় আমরা তা দেখাবো। কমিশন বলেছে কেউ সন্দেহ করলে যারা প্রোগ্রামিং বোঝে তারা প্রতিনিধি দিলে আমরা তাদের তা দেখাবো।

সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়ে আচরণ বিধিতে বিধিনিষেধ নেই, প্রার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালাতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আচরণ বিধিতে যেগুলো আছে সেগুলো করা যাবে না।  কিন্তু যেগুলো বলা নেই আমরা তো সেক্ষেত্রে বলতে পারবো না যে এগুলো করতে পারবেন না। যদি এমন কিছু হয় যেগুলো আচরণবিধিতে নেই তখন যদি কমিশন মনে করে যে এগুলো করা ঠিক হবে না, সে ক্ষেত্রে কমিশন সার্কুলার জারি করে দিতে পারে। এটা এই সিটিতে করা যাবে কিনা সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।