পাকিস্তান সফর ‘বাতিল’, বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ ফেব্রুয়ারিতে


 

সংবাদমাধ্যমে পিসিবি কর্তাদের অনেক আস্ফালন শোনা যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রচার মাধ্যমসহ দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররাও তাদের মত করেই কথা বলছেন। কথা শুনে মনে হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবশ্য করণীয় কাজই হলো তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পাশাপাশি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান যাওয়া এবং তা না করলে রীতিমত ‘মহাভারত অশুদ্ধ’ হয়ে যাবে।

বিভিন্ন বার্তাসংস্থাগুলোও পিসিবি কর্তা ও সাবেক ক্রিকেটারদের একতরফা কথাবার্তা ফলাও করে প্রচার করছে। তবে বিসিবিও আবার কোনোভাবেই পাকিস্তানিদের ঐ দাবি মানবে না, নিজ অবস্থান থেকে একচুলও নড়বে না। অর্থাৎ টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি সিরিজ একসঙ্গে খেলতে পাকিস্তান যাবে না।

সে কথা জানিয়ে দেয়ার পরও পিসিবির তা বোধগম্য হচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে বাংলাদেশ যে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার চিন্তা থেকে সরে অন্য কিছু করার কথা ভাবছে, পিসিবির কর্তারা হয়ত তা জানেনও না। ভেতরের খবর, সেটাই সত্য।

বোর্ডের নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, ‘পাকিস্তান সফর বাতিলই বলা যায়। আমরা কোনভাবেই টি-টোয়েন্টি সিরিজের সঙ্গে টেস্ট খেলতে পাকিস্তানে দল পাঠাবো না। বিসিবি এ চিন্তায় অনেকদূর এগিয়েও গেছে। তাই আগামী মাসে (ফেব্রুয়ারিতে) জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।’

যদিও বিসিবি থেকে সরাসরি এখনো পাকিস্তান সফর বাতিলের ঘোষনা আসেনি। বিসিবি কর্তারাও সরাসরি বলছেন না যে পাকিস্তান সফর বাতিল বলেই ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের চিন্তা।

তাদের কথা, যেহেতু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এশিয়া ও বিশ্ব একাদশের ম্যাচ- তাই মার্চে জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজ না করে ফেব্রুয়ারিতে আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে।

আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী, আগামী মার্চে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল জিম্বাবুয়ের। এখন তা এগিয়ে এনে ফেব্রুয়ারিতে করার চিন্তাভাবনা চলছে। আসলে বিষয়টি চিন্তাভাবনার পর্যায় থেকে আরও এগিয়ে এসেছে। বিসিবির একাধিক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই দেশে আসবে জিম্বাবুয়ে।

আর ফেব্রুয়ারি মাসে জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশে খেলতে আসার অর্থ হলো পাকিস্তান সফর বাতিল। হয়তো খুব শীঘ্রই ঐ ঘোষণা আসবে এবং জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ফেব্রুয়ারি-মার্চে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ আয়োজনের সিদ্ধান্তও চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। আজ (সোমবার) বিসিবি সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন আর ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি চেয়ারম্যান আকরাম খানের কন্ঠেও মিলেছে তেমন আভাস।