শ্রীলঙ্কার কাছে হাথুরুর ৪২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি


চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে সরিয়ে ২০১৯ সালের আগস্টে জেরোমে জয়ারত্নেকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। স্বদেশি ক্রিকেট বোর্ডের এই আচরণে নাখোশ সাবেক এ লঙ্কান ক্রিকেটার। তাদের কাছে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর আচমকা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন হাথুরুসিংহে। ওই বছরের ডিসেম্বরে কোচ হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে এসএলসি। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি খুব একটা। তার অধীনে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম এশীয় দেশ হিসেবে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জেতে শ্রীলঙ্কা।

বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর হাথুরুসিংহে ও তার সহকারীদের বের হওয়ার দরজা দেখায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট। চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই বিদায় হওয়া ভালোভাবে নেননি ৫১ বছর বয়সী এ লঙ্কান। বোর্ড সেক্রেটারি মোহন ডি সিলভা রবিবার এএফপিকে বলেছেন, ‘তিনি ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন।’

এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা না গেলেও রবিবার আইল্যান্ড নিউজপেপার তাদের রিপোর্টে লিখেছে, বাকি ১৮ মাসের পুরো বেতন চেয়েছেন হাথুরুসিংহে, যেটা দাঁড়ায় ১০ লাখ ডলারে। ভুল কারণে বের করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক কোচ হিসেবে সম্মানহানি হয়েছে মনে করেন তিনি। তাই বকেয়া বেতনসহ ৫০ লাখ ডলার চেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ।

ওই সংবাদপত্রের দাবি, বোর্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে হাথুরুসিংহেকে ছয় মাসের বেতন দিতে রাজি হয়েছে। বরখাস্তের আগে মাসিক ৬০ হাজার ডলার বেতন পেতেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর থেকেই তার প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি হয় তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হরিন ফার্নান্দোর। তার মতে, হাথুরুসিংহেকে অতিরিক্ত বেতন দেওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী ফল নেই তাদের। ওই বেতনে একজন বিদেশি কোচকে নেওয়া যায় বলেছিলেন ফার্নান্দো।

হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর জয়ারত্নে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বিদেশি কোচদের হাতেই উঠেছে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব। গত ডিসেম্বরে প্রধান কোচ হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিকি আর্থার। ব্যাটিং কোচ হয়েছেন সাবেক জিম্বাবুয়ান ক্রিকেটার গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। অস্ট্রেলিয়ান ডেভিড সাকের বোলিং কোচ এবং শেন ম্যাকডারমট ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব পান। দুই বছরের চুক্তিতে তাদের বেতন কত সেটা নিয়ে আলোচনা করেনি বোর্ডের কেউ।