তথ্য গোপন করে আইনী জটিলতায় ফেসবুক!


শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে ২০১২ সালে ফেসবুকের বিরুদ্ধে আর্থিক তথ্য গোপন করার অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।এখন মার্কিন একটি আদালত বলেছে, সেই মামলা চলতে কোনো সমস্যা নেই।তথ্য গোপন করায় বিনিয়োগকারীরা যে ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন দলবদ্ধভাবে তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন। অপরদিকে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়ার মাধ্যমে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ শেয়ারবাজার থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ সংগ্রহ করেছিল। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, ওই সময় ফেসবুকের শেয়ারের দাম বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল।সেজন্য বেশি দামে ফেসবুকের শেয়ার কিনে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ওই বছরের মে মাসে নিউইয়র্ক স্টক মার্কেটে ফেসবুকের শেয়ার লেনদেন শুরু হয় এবং প্রতি শেয়ার ৩৮ ডলারে কেনা-বেচা হয়।কিন্তু মাত্র চার মাসের মাথায় ফেসবুকের শেয়ারের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। এই অর্ধেক দাম প্রায় এক বছর বজায় ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ফেসবুকের শেয়ারের দাম আবার বাড়তে থাকে এবং গত মঙ্গলবার পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্টক মার্কেটে সেটি ১০৭.২৬ ডলারে লেনদেন হয়।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, মোবাইল ডিভাইসের গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে যাবার কারণে ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন থেকে ফেসবুক যে বাড়তি অর্থ লাভ করবে সে বিষয়টি তারা ২০১২ সালের তথ্যে অন্তর্ভুক্ত করেনি। কারণ, ২০১২ সালে মোবাইল ডিভাইসে বিজ্ঞাপনের মাত্রা কম ছিল। বিচারক বলেছেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করেছিল যাতে মনে হয় শেয়ারহোল্ডাররা বিষয়টি আগেই জানতো।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ চেয়েছিল, কোনো বিনিয়োগকারী যদি নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করেন তাহলে তিনি যেন ব্যক্তিগতভাবে সেটি দাবি করেন। কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষের এই চাওয়া আদালত নাকচ করে দিয়েছে।