মাওবাদীরা নয়, ১৭ গ্রামবাসীকে খুন করেছিল ভারতীয় পুলিশ


ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের বিজাপুরে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে খুন করেছিল। আর নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল মাওবাদী বিদ্রোহীদের নামে। তবে বাস্তবে ওই ঘটনায় কোনও মাওবাদী মারা যায়নি। গ্রামবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি। সাত বছর ধরে মামলার শুনানির পর বিচারপতি বিজয় কুমার অগ্রবালের বিচার বিভাগীয় কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্য। নভেম্বরে সেই বিচার বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়েছে। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

রাজ্যের বিজাপুর জেলার সারকেগুড়ায় ওই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে ২০১২ সালের ২৮ জুন। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার জেরে তদানীন্তন রাজ্য বিজেপি সরকার এক সদস্যের এই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেদিন পুলিশ বিজাপুরের সারকেগুড়ায় বিনা প্ররোচনায় গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যাতে বলা যায় গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল কিংবা পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর কোনও বন্দুকযুদ্ধ হয়েছিল।

পুলিশের রিপোর্টে সেদিনের ঘটনায় ১৭ মাওবাদীর মৃত্যুর কথা বলা হলেও তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, নিজেদের দাবির সপক্ষে পুলিশ কোনও তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
অবসর নেওয়ার আগে গত ১৭ অক্টোবর বিচারপতি অগ্রবাল তার কমিশনের রিপোর্ট জমা দেন। শনিবার রাতে সেই রিপোর্ট পেশ হয় রাজ্য মন্ত্রিসভায়। সোমবার তা বিধানসভায় পেশ করা হয়।
কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘পুলিশি তদন্তের পুরো প্রক্রিয়াটাই ছিল ভুলে ভরা। অনেক তথ্য-প্রমাণ বিকৃতও করা হয়েছে।’ মাওবাদীদের কাছ থেকে প্রচুর বন্দুক ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পুলিশি দাবিও উড়িয়ে দিয়েছে তদন্ত কমিশন।

মামলায় গ্রামবাসীর আইনজীবী ছিলেন ঈশা খাণ্ডেলওয়াল। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ‘কমিশনের রিপোর্টের কোনও কপি এখনও আমাকে দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি মৃত গ্রামবাসীর পরিবারগুলোকেও।’