প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগেও সন্তুষ্ট নয় ইরাকের বিক্ষোভকারীরা


ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজাফে একটি মাজারের প্রবেশ পথে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। শনিবার তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। একদিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর নতুন এই বিক্ষোভ আরও রক্তপাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহাদী পার্লামেন্টে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে একেই যথেষ্ট মনে করছে না সে দেশের বিক্ষুব্ধ মানুষ। রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

কর্মসংস্থানের সংকট, নিম্নমানের সরকারি পরিষেবা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত ১ সেপ্টেম্বর বাগদাদের রাজপথে নামে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও গুলি চালিয়ে তাদের ওপর চড়াও হলে এই বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়ে ওঠে, ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। গত বুধবার নাজাফে ইরানি দূতাবাসে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে। নিহত হয় প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী। এ নিয়ে গত কয়েক মাসের বিক্ষোভে প্রায় চারশ মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫ হাজার।

নাজাফে নিহত এক বিক্ষোভকারীর জানাজায় উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রয়টার্সকে বলেন, নিহত ব্যক্তি ইরাকের পতাকা আর ফুল হাতে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিল। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

শনিবার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি। এর আগে মন্ত্রিসভা তাকে পদত্যাগের অনুমোদন দেয়। তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হবে কিনা রবিবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবি মেটাতে এবং সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরাকি বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এটাকেও যথেষ্ট বলে মনে করছে না তারা। তাদের দাবি, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। বিক্ষোভকারীরা বলছে, বিদ্যমান ব্যবস্থা দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের দারিদ্র্যে নিমজ্জিত করছে আর মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতাকে লাভবান হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।

এদিকে শনিবার বিক্ষোভকারীরা নাজাফের মাজারের প্রবেশপথে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও রয়টার্সকে পাঠিয়েছে।