সংগ্রাম থেকে শেখার সংকল্প মুমিনুলের


এমনিতেই দেশের বাইরে তার পারফরম্যান্স তেমন ভালো নয়। তার ওপরে হঠাৎ পাওয়া অধিনায়কত্বের চাপ বোধহয় সামলাতে পারেননি মুমিনুল হক। ভারত সফরে দুটি টেস্টের দিকে তাকালেই তা বোঝা যাবে। ইন্দোরে ৩৭ ও ৭ রান করার পর কলকাতায় দুই ইনিংসেই তিনি শূন্য রানে আউট। হাবিবুল বাশারের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে ‘পেয়ার’-এর লজ্জার অভিজ্ঞতা হলো মুমিনুলের।

দেশের মাটিতে ব্যাটিং গড় ৫৫.৩৩ হলেও দেশের বাইরে মাত্র ২১.৪৫। ভারত সফরের ব্যর্থতায় মুমিনুলের গড় নেমে গেছে চল্লিশের নিচে, ৩৯.৬৫। পেস বোলিংয়ের সামনে কেমন যেন নড়বড়ে তিনি। সামি-উমেশ-ইশান্তের তোপ আবার বুঝিয়ে দিলো, জেনুইন পেস বোলিংয়ের সামনে কতটা অসহায় মুমিনুল।

ব্যাটিং গড় চল্লিশের নিচে নেমে যাওয়া নিয়ে অবশ্য চিন্তিত নন তিনি। ইডেন টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নতুন টেস্ট অধিনায়ক বললেন, ‘আমি নিজের গড় নিয়ে ভাবছি না। দলের ফল নিয়ে আমি একটু হতাশ। সেটাই তো স্বাভাবিক। হয়তো আমি এখন সংগ্রাম করছি। তবে সংগ্রাম থেকেই মানুষ ভালো কিছু পায়, হয়তো আমিও পাবো।’

সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় হঠাৎ পেয়েছেন অধিনায়কত্ব। তবে নেতৃত্বের কারণে সিরিজটা খারাপ কেটেছে মানতে নারাজ মুমিনুল, ‘আমার কাছে অধিনায়কত্বকে সমস্যা মনে হয়নি। সব কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, আমিও মানিয়ে নিয়েছি। ভালোভাবে অধিনায়কত্ব করার চেষ্টা করেছি। টিম ম্যানেজমেন্ট, সাপোর্টিং স্টাফ সবার সহযোগিতা পেয়েছি।’

অনেকদিন ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের বাইরে মুমিনুল। জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে। টি-টোয়েন্টি তো বহু আগে, ২০১৪ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের হয়ে শুধু টেস্ট খেলতে সমস্যা হয় না? মুমিনুলের জবাব, ‘এটা আসলে মানসিক ব্যাপার। আমি এর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। অবশ্য কোনও বছরে খেলা কম থাকলে কিছুটা স্ট্রাগল করতে হয়। তবে স্ট্রাগল মানুষকে পরিপূর্ণ করে তোলে। হতাশ না হয়ে কী শিখছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

শেখা নিয়ে তার ব্যাখ্যা, ‘শেখার তো অনেক কিছুই আছে। আমি শিখছি কীভাবে পেস বলের চ্যালেঞ্জ নেওয়া যায়, সেশন বাই সেশন খেলা যায়। এবার গোলাপি বলে খেলার অভিজ্ঞতা হলো। এটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’