শুল্ক সুবিধায় পাওয়া গাড়ি বিক্রির সুবিধা চাইলেন বিএনপির হারুন


এমপি হওয়ার পর শুল্কমুক্ত ব্যবস্থায় গাড়ি বিক্রি করে দেয়ার সুবিধা চেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুন-অর রশিদ। এই অনিয়মের কারণে সাতদিন জেল খাটেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করব ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এমপিদের গাড়ি কেনার সুযোগটা দেন। তাহলে পাঁচ বছর একটা গাড়ি ব্যবহারের পর গাড়িটা বিক্রি করলে অন্তত মূলধনটা সে ফেরত পাবেন।

সোমবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিক্রি করে দেয়ায় ৫ বছরের দণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এ মামলায় আরও দুজনকে সাজা দেয়া হয়। তারা হলেন- ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান ও গাড়ি ব্যবসায়ী ইশতিয়াক সাদেক।

সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) অসাধারণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সারাদেশে যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন এবং দেখা যাচ্ছে যে সেখানে আওয়ামী লীগেরই বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। ঠিক ওই রকম একটা মুহূর্তেই আমার সাজা হলো এবং এটা এতো ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলো সারাদেশের মানুষের মধ্যে যে বিএনপির এমপি বলেই হারুনকে সাজা দেয়া হইছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আলহামদুলিল্লাহ, উচ্চ আদালতে আমি আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে অতি অল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাই এবং সুপ্রিম কোর্টও আমাকে জামিন দেন।

তিনি বলেন, এমপিদের ১৯৮৮ সাল থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা দেয়া হচ্ছে। একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পঞ্চম সংসদে ৩০১, সপ্তম সংসদে ১৭৬, অষ্টম সংসদে ৩৩১, নবম সংসদে ৩১৫টি শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করা হয়েছিল।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা টাকা দিয়ে গাড়িটি আমদানি করি। ৯৬ সালে আমি যখন প্রথম এমপি হই, তার আগে আমি গাড়ি ব্যবহারকারী ছিলাম না। আমার কোনো ব্যক্তিগত গাড়িও ছিল না। এমপিদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের জন্য জাতীয় সংসদ এমপিদের এই সুযোগটি দিয়েছিল। এটি নিয়ে পত্রপত্রিকায় ঢালাওভাবে লেখালেখি হয়।

স্পিকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকা উন্নত বিশ্বে এক থেকে দেড়কোটি টাকা দিয়ে নগদে গাড়ি কেনা যায় না। তারা ব্যাংকের সুবিধা পায়। ডাউন পে-মেন্ট দিয়ে গাড়ি ক্রয় করে। আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার সুবিধা দেয়া হয়েছে। সচিবরা গাড়ির অপব্যবহার করছে বলেও খবর দেখলাম।

তিনি বলেন, মাননীয় সংসদ নেতা রয়েছেন, তারা তো রিকশায় করে গণভবনে যাবেন না। সচিবালয়ে তো রিকশায় যাবে না। আমি অনুরোধ করব ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে এমপিদের গাড়ি কেনার সুযোগটা দেন, তাহলে পাঁচ বছর একটা গাড়ি ব্যবহারের পর গাড়িটা বিক্রি করলে অন্তত মূলধনটা সে ফেরত পাবেন।

তিনি বলেন, আমি যে বিষয়টি বলতে চাই। যখন রায়টি হলো আমার এলাকায় দেখলাম কিছু ব্যক্তি আনন্দ উৎসব করল, রাতে পিকনিক করল। সারাদেশের মানুষ কিন্তু আমার জন্য দোয়া করেছে। আমি জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের অনেকে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন। আমি তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে গাড়ি আমদানি পরিপত্র আছে, আমি যদি গাড়ি সত্যিকার অর্থে হস্তান্তর করে থাকি তখন আমাকে সমুদয় শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এখানে জরিমানা বা জেলের কোনো সুযোগ নেই। আমি আশা করি, উচ্চ আদালত আমাকে এই বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আসবেন।

মাননীয় স্পিকার আপনার কাছে আমি অনুরোধ করব এমপিদের যে সুযোগটি দেয়া হয়েছে, এমপিরা যেন গাড়ি কিনতে পারে, গাড়িটি ব্যবহার করতে পারে। এই বিষয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করবেন এবং মাননীয় সংসদ নেতাও রয়েছেন। অপব্যবহার যেন না হয়, চারমাস আগে আমাকে গাড়ি কেনার পারমিশন দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাংকে আমার ১ কোটি টাকা নাই। আমি অবৈধভাবে কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনতে পারি। কিন্তু আমি সেই জায়গায় যাবো না। আমি এই জন্য আপনার কাছে আন্তরিক সহযোগিতা চাই।