বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু বহাল তবিয়্যতে


 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী জি. কে শামীমের অন্যতম ক্যাডার মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু বহাল তবিয়্যতেবিএনপি থেকে অনুপ্রবেশকারী জি. কে শামীমের অন্যতম ক্যাডার মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু বহাল তবিয়্যতে।

 

অবৈধ ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা ক্ষেত্রে সরকারের শুদ্ধি অভিযানের ফলে একে একে বেরিয়ে আসছে লেবাস পাল্টানো একশ্রেণির নেতার ভয়াবহ অপকর্মের নানা তথ্য-প্রমাণ।চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকা এসব ‘মুখোশধারী’ প্রভাবশালী নেতাদের অপকর্ম প্রকাশ পাচ্ছে। কিন্তু সবুজবাগ থানার স্বেছাসেবক লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন লিটু বহালতবিয়্যতে আছেন। এক সময় যারা আওয়ামী লীগকে প্রধান শত্রু টার্গেট করে রাজনীতি করেছে, তারাই এখন ক্ষমতাসীন দলে সুবিধাজনক পদ-পদবি পেয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের এসব পদ-পদবি ব্যবহার করে এলাকাভিত্তিক প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন এসব ‘হাইব্রিড’ নেতা। স্থানীয় বেশকিছু নেতার মধ্যে রাজধানীর সবুজবাগ থানার স্বে”ছাসেবক লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু’র নাম অন্যতম। স্থানীয়দের তথ্য মতে, টেন্ডার কিং জি.কে শামীম এর প্রধান প্রটোকল ক্যাডার ও সাবেক যুবদল নেতা বর্তমানে সবুজবাগ থানা স্বেছাসেবক লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু। বিয়ার লিটু ছিলেন সাবেক যুবদল নেতা পরবর্তীতে বোল পাল্টিয়ে জি.কে শামীমের সহযোগিতায় সবুজবাগ থানা স্বেছাসেবক লীগের সভাপতি হয় । বিয়ার লিটু ২০১০ সালে সবুজবাগ থানা স্বেছাসেবক লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সুজন রানাকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাথারী আঘাত করে জখম করে এবং রিভলবার দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়ে এবং সেই গুলি এখনও সুজন রানার শরীরে বিদ্যমান রয়েছে। সুজন রানার মামলার প্রধান আসামী মহিউদ্দিন লিটূ ওরফে বিয়ার লিটু। এ মামলায় বিয়ার লিটু দীর্ঘদিন জেলহাজতে থাকার পর জি.কে শামীমের সহায়তায় জামিনে মুক্তি পেয়ে সাবেক যুবদল নেতা জি.কে শামীমের প্রধান প্রটোকল ক্যাডার হিসেবে নিযুক্ত হয়ে এলাকার চিহ্নিত বিয়ারের ডিলারসহ সকল প্রকার মাদক ব্যবসা, ভুমি দখল, চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত।

সূত্রে আরো জানা যায় যে, কদমতলা ওয়াসা রোডের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদা উঠানোর জন্য আনোয়ারকে দিয়ে ক্যাডার বাহিনী গঠন করে এবং জি.কে শামীমের সকল ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড এই মহিউদ্দিন লিটূ ওরফে বিয়ার লিটু নিজে এবং তার সন্ত্রাসী দলবলসহ দীর্ঘদিন যাবত পরিচালনা করে আসছে এবং বহাল তবিয়্যতে ঘোরাফেরা করছে। সূত্রমতে জানা যায় মহিউদ্দিন লিটূ ওরফে বিয়ার লিটু জি.কে শামীমের মামাতো ভাই। সেই সুবাদে জি.কে বিল্ডার্সের নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন যাবত টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি করে আসছে বিয়ার লিটু। সূত্রে আরো জানা যায়, বিয়ার লিটু বিলাসবহুল গাড়ীতে চরে বেড়ান এবং ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় রয়েছে টেক্সটাইল
মিল, স্বনামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে মোটা অংকের ব্যাংক ব্যালেন্স। অভিজ্ঞমহল মনে করেন যে, দলে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে ত্যাগী নেতাদেরকে কমিটিতে মূল্যায়ন করলে দির্ঘদিনের ভুক্তভোগিরা চাঁদাবাজদের কবল থেকে রক্ষা পাবে এবং দলীয়ভাবে সরকার লাভবান হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহিউদ্দিন লিটু ওরফে বিয়ার লিটু কদমতলা ওয়াসা রোডের বাজারে নিয়মিত চাঁদাবাজিও নিয়ন্ত্রণ হয় তারই মাধ্যমে। বিয়ার লিটু বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে গুর“ত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন সবুজবাগের ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।