‘‌রাজনীতি ছাড়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করা সম্ভব নয়’


 

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে রাজনীতি করতে হবে। রাজনীতি না করে নিরপেক্ষ, নির্মোহভাবে কাজ করা যাবে না বা সম্ভব নয় বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গেলে পলিটিক্স (রাজনীতি) লাগবেই। পলিটিক্স না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করা যাবে না।’

রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট আয়োজিত ‘স্ট্রেন্থেনিং ভলান্টারি সিভিল সোসাইটি লিডার্স ফর সোশ্যাল অ্যাকশন’ শীর্ষক এক প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মনেপ্রাণে যদি বিশ্বাস করেন এটা অন্যায়, তাহলে আপনাকে কোনো স্ট্রাকচার, অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে আগাতে হবে। সেটা আপনার চয়েজ কোনো দিকে যাবেন। তবে পলিটিক্যাল না হয়ে বোধহয় সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে, নিরপেক্ষভাবে এগুলো করা যাবে না।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা, দারিদ্র্য দূর করতে না পারলে প্রশমিত করা; কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সব মানুষ বাঁচার মর্যাদা, প্রকাশের মর্যাদা, কথা বলার মর্যাদা, লেখার মর্যাদা অর্জন করতে পারে এবং বাস করতে পারে, সেই উদ্দেশে আমরা আগাচ্ছি।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাচ্ছি যে, অন্যায়গুলো প্রোথিত, আমাদের সমাজে হাজার বছর ধরে, সেই অন্যায়গুলো কিছুটা হলেও আমরা কেটে কেটে ছোট করে শেষ করে দেব। আমি বিশ্বাস করি, সেই কাজে আমরা এগোচ্ছি, না হলে আমি শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করতাম না। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী সঠিক পথে আছেন।’

অনুষ্ঠানে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, গতানুগতিক সেবাদান প্রক্রিয়া বিরাজমান ক্ষুধা-দারিদ্র্যের স্থায়িত্বের অন্যতম কারণ। এছাড়া গতানুগতিক প্রচেষ্টায় মোট ব্যয়ের সামান্য অংশই পিছিয়ে পড়া জনগণের কাছে পৌঁছাবে।

স্থায়ীভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করতে হলে প্রয়োজন বিকল্প ধারার উন্নয়ন কৌশল। যার মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে জাগিয়ে তোলা, সংগঠিত করা ও তাদের সামর্থ্যের বিকাশ ঘটানো। এ জন্য তরুণদের মধ্যে শুভশক্তি সৃষ্টি করতে কাজ করছে দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট।

এ সময় দ্য হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বদিউল আলম মজুমদার, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তাফা কে মুজেরি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।