ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে ছক্কা বৃষ্টির রেকর্ড!


ইনিংসের ৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলটিতে রবীন্দ্র জাদেজাকে মিডউইকেটের ওপর হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলেন ড্যান পেইডট। সেই বলটি গিয়ে আছড়ে পড়লো বাউন্ডারি লাইনের অপরপাশে। সঙ্গে সঙ্গেই বিশাখাপত্মনমে তৈরি হয়ে গেলো অনন্য এক রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটের নির্দিষ্ট একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড হয়ে গেলো তখন।

এরপর আরও একটি ছক্কা হলো। ইনিংসের ৬১তম ওভারে সেই রবীন্দ্র জাদেজাকে আবারও ছক্কা হাঁকালেন কাগিসো রাবাদা। ছক্কা বৃষ্টির রেকর্ডটা আরো একটু বড় হলো।

এক টেস্টে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল ৩৫টি। ২০১৪ সালে শারজায় পাকিস্তান এবং নিউজিল্যান্ডের ম্যাচে এতগুলো ছক্কা মেরেছিল দু’দেশের ব্যাটসম্যানরা।

এবার সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেলো ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। ড্যান পেইডটের ছক্কা দিয়ে পুরনো রেকর্ড ভেঙে ৩৬তম ছক্কা হয়েছিল বিশাখাপত্মনমে। রাবাদার ছক্কা দিয়ে হলো, ৩৭ ছক্কার মার। এর মধ্যে রোহিত শর্মা দুই ইনিংসে একাই মেরেছেন ১৩টি ছক্কা। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ১২৭ রান।

আর ভারতের মাটিতে এর আগে কোনো টেস্টে সর্বোচ্চ ছক্কার মার ছিল ২০টি। ২০০৯ সালে মুম্বাইতে ভারত আর শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচে ওই ছক্কাগুলো মারা হয়েছে। এছাড়া ওই বছরই রাজকোটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ভারতের ব্যাটসম্যানরা মিলেও মেরেছিল ২০টি ছক্কার মার। এবার মারা হলো আরও ১৭টি বেশি।

রোহিত শর্মা ১৩ ছক্কা মেরেও রেকর্ডের পাতায় ঠাঁই করে নেন। এক টেস্টে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড ছিল ওয়াসিম আকরামের, ১২টি।

ছক্কা বৃষ্টির এই ম্যাচে কীর্তি গড়েছেন মোহাম্মদ শামিও। ১৯৯৬ সালের পর আর কোনো ভারতীয় বোলার চতুর্থ ইনিংসে বোলিং করে ৫ উইকেট নিতে সক্ষম হয়নি। সর্বশেষ ’৯৬ সালে জাগভাল শ্রীনাথ আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। ২৩ বছর অপেক্ষার পর এবার সেই কীর্তি গড়লেন মোহাম্মদ শামি।