আলিবাবা থেকে জ্যাক মা’র অশ্রুসিক্ত বিদায়


নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান আলিবাবা থেকে পদত্যাগ করলেন চীনা ধনকুবের জ্যাক মা। মঙ্গলবার  পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব ড্যানিয়েল ঝ্যাংয়ের হাতে তুলে দেন জ্যাক। বিদায়ের মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে চেষ্টার ত্রুটি করেননি এশিয়ায় একসময়কার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জ্যাক মা। জ্যাক মা নিজে রকস্টারের বেশে হাজির হয়েছিলেন তাদের সামনে।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু আলিবাবার।অনলাইনে কেনাবেচার সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং এবং চলচ্চিত্র তৈরীর মত সেবাও দিয়ে থাকে আলিবাবা। পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট কোম্পানি হিসেবে সফলতা লাভ করে কোম্পানিটি। আলিবাবা’র বর্তমান বাজার মূল্য ৪০০ বিলিয়ন বা ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।

গত বছরেই ঘোষণা দিয়েছিলেন নতুন কাউকে দায়িত্ব তুলে দেবেন তিনি। সেই অনুযায়ী মঙ্গলবার ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি স্টেডিয়ামে চার ঘণ্টার অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।  জ্যাক মা বলেন, ‘আজকের রাত পার হলেই আমি নতুন জীবন শুরু করবো। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবী সুন্দর, সেখানে অনেক সুযোগ রয়েছে। সেই জীবন অনেক রোমাঞ্চকর। এটা উপভোগ করতেই আমি আগে অবসরে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে চীনের পপ মিউজিকের তালে পা মেলান জ্যাক মা, সঙ্গে ছিলেন আলিবাবার আর এক প্রতিষ্ঠাতা লুসি পেং এবং সংস্থার টেকনোলজি কমিটির প্রধান নির্বাহী ওয়াং জুয়ান। তাদের সবার পরনেই তখন রক স্টারদের মতো লেদার জ্যাকেট। মাথায় ছিল পরচুলা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা জো সাই। তিনি  সেজেছিলেন হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর আইকনিক স্টাইলে।

বিদায় জানানোর এক মুহূর্তে আবেগী হয়ে পড়েন জ্যাক মা। অশ্রুসিক্ত চোখ মুছতে থাকেন। তার এই ছবি নিয়ে ‘জ্যাক মা ক্রাইড’ নামে একটি হ্যাশট্যাগ ঝড় তোলে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে।

জ্যাক মা পেশাগত জীবনের শুরু করেন চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে। হাংঝৌ’য়ে তাঁর ফ্ল্যাটে কয়েকজন বন্ধুর সাথে আলিবাবা’র কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।