উস্কানিমূলক কথা বন্ধ করুন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে : হানিফ


উস্কানিমূলক কথা বন্ধ করুন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে : হানিফ

 

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘যে বিভেদ আপনারা সৃষ্টি করে গেছেন, সেজন্য আজকে জাতি বিভক্ত। আজকে বাংলাদেশের সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত। স্বাধীনতার পক্ষে এবং বিপক্ষে। আপনাদের কাছে আর ঐক্যের কথা শুনতে চাই না। জাতি আজকে ঐক্যবদ্ধ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এর বাইরে আছে স্বাধীনতাবিরোধীরা।’

এ সময় টিআইবির রিপোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দশম সংসদ জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ কোন হিসেবে? এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতেই পারে। আলোচনা কম সময় হলে কিসের সমস্যা হয়? এই বিল পাসে কি উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে? বিল পাসের সময়ের ওপর কীভাবে এটা নির্ভর করে?’

হানিফ বলেন, ‘এই বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বিএনপি-জামায়াতের একটি চক্র এখনও তৎপর। এ দেশ যখন উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যায় তখন পদে পদে বাধাগ্রস্ত করে তারা।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সব কিছু সমাধান করার সক্ষমতা রয়েছে শেখ হাসিনার সরকারের। দেশকে যদি ভালোবাসেন, একটি অনুরোধ করব-মির্জা ফখরুল সাহেব, আপনাদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং কথাবার্তা বন্ধ করুন। তাহলে দেখবেন সকল সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে। আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানসহ সকল সমস্যার সমাধান হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সকল সমস্যার সমাধান হবে। দয়া করে আপনারা উস্কানিটা বন্ধ রাখুন।’

বিএনপির মুখে জাতি ঐক্যের কথা জাতি শুনতে চায় না দাবি করে হানিফ বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বৈঠক করেছেন, সেই বৈঠক শেষে তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন, খুবই ভালো কথা বলেছেন। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, রোহিঙ্গা ইস্যু জাতীয় সমস্যা-এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনারা জাতির মধ্যে যে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। আপনার নেতা জিয়াউর রহমান এদেশের রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়ে জাতির মধ্যে একটা সুস্পষ্ট বিভেদ তৈরি করে দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আপনাদের মুখের জাতি ঐক্যের কথা যাতে শুনতে চায় না। আমরা বলতে চাই, জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি শক্তির সঙ্গে ঐক্যের কোনো প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল টিআইবি একটি রিপোর্ট দিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যর্থ হিসেবে আপনারা বলছেন, ২৬ মিনিটে বিল পাস হয়েছে। সমস্যাটা কোথায়? দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে যদি কোনো বিল উত্থাপন হয়, সেটা সকলের সম্মিলিত দীর্ঘ আলোচনার বিষয় যদি না থাকে, তাহলে সকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। সে ক্ষেত্রে কোনো বিলে দুই ঘণ্টার আলোচনা না করে, আধাঘণ্টা আলোচনা করেও যদি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়, তাহলে কীসের সমস্যা?’

হানিফ বলেন, ‘আপনি বলতে পারেন এই বিল পাস হওয়ার কারণে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে কি-না। অন্য কোনো সমস্যার সৃষ্টি করেছে কি না- সেটা স্পষ্ট করে বলেন। যদি বাধা হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন। বিল কীভাবে পাস হলো, কত সময় পাস হলো-সেটার সঙ্গে সংসদের যৌক্তিকতা নেই।’

বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির সভাপতি খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, কবি নির্মলেন্দু গুণ, সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন মানিক, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।